ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, রণক্ষেত্র কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতাল!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কল্যাণী: আবারও কাঠগড়ায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা। ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতাল। ক্ষুব্ধ পরিজনদের তাণ্ডবে হাসপাতালের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়। এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের অভিযোগ
মৃতের নাম মহম্মদ মণ্ডল (৭১)। তিনি নদিয়ার চাকদহ থানার শিমুরালি মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে:
-
গত চার-পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন বৃদ্ধ।
-
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার তাঁকে জেএনএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
-
অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর প্রায় দেড় দিন কেটে গেলেও কোনও সিনিয়র চিকিৎসক তাঁকে দেখেননি। বরং ইন্টার্ন ডাক্তাররাই তাঁর চিকিৎসা করছিলেন।
-
শুক্রবার রাত দুটো নাগাদ তাঁকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যু হয়।
‘পরিকল্পিতভাবে খুনের’ অভিযোগ
মৃতের মেয়ে আম্বিয়া মণ্ডলের দাবি, “ভুল ওষুধ প্রয়োগ করার কারণেই বাবার মৃত্যু হয়েছে।” অন্যদিকে, ছেলে সাইফুল মণ্ডল সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, তাঁর বাবাকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। তাঁদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে এই কারণে যে, একই দিনে মেল মেডিসিন ওয়ার্ডে আরও তিনজন রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, যার কারণ এখনও অস্পষ্ট।
উত্তেজনা ও ভাঙচুর
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনেরা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই শোক ক্ষোভে পরিণত হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ওয়ার্ডের ভেতরে ভাঙচুর শুরু করেন তাঁরা। ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালের অন্যান্য রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের মধ্যে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
মৃতের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার পর্যাপ্ত তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
