আজকের দিনেতিলোত্তমা

ঘাসফুল শিবিরের বাইপাসের কর্পোরেট দলীয় কার্যালয় খালি করার প্রক্রিয়া শুরু

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর এবার আক্ষরিক অর্থেই ‘ঠিকানা’ হারাতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কালীঘাটের পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাইপাসের ধারে যে ঝাঁ-চকচকে কর্পোরেট ধাঁচের কার্যালয় গড়ে তুলেছিল দল, ভাঙনের মরশুমে এবার তা-ও উঠে যাওয়ার মুখে। ইতিমধ্যেই বাড়িটির মালিক মন্টু সাহা সপরিবারে উপস্থিত থেকে কার্যালয় খালি করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে কলকাতায় কালীঘাটের বাইরে তৃণমূলের আর কোনো ‘প্রধান কার্যালয়’ বা বিকল্প সদর দফতর থাকবে না।

দাঁড়িয়ে থেকে চার ও পাঁচতলা খালি করালেন বাড়ির মালিক
​গত কয়েকদিন ধরেই এই বাড়িটি খালি করার প্রক্রিয়া অল্পবিস্তর চলছিল। তবে মঙ্গলবার তা চরম রূপ নেয়। এদিন সকালে ‘মডার্ন ডেকরেটরস’-এর মালিক মন্টু সাহা তাঁর ছেলে ও বউমাকে সঙ্গে নিয়ে বাইপাসের ধারের ওই ‘তৃণমূল ভবন’-এ যান। সেখানে দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর চার ও পাঁচতলা খালি করার কাজ শুরু হয়।
​সূত্রের খবর, বাড়ির প্রথম তিনটি তলা তৃণমূলকে ভাড়া দেওয়া হলেও উপরের দুটি তলাতেও দলীয় কাজকর্ম চলত। মঙ্গলবার মন্টুবাবুর ছেলে অমিত ও তাঁর স্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ওই দুটি তলা থেকে দলের ব্যানার, পোস্টার, চেয়ার ও অন্যান্য নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার তদারকি করেন। মালিকপক্ষের দাবি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নিচের তলাগুলিও খালি করে দেওয়া হবে বলে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে।
​যজ্ঞ করে শুরু, ৪ বছরেই কর্পোরেট অফিসের এই পরিণতি!
​২০২২ সালের মে মাসে ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটানের কাছে এই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। খোদ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো ও হোম-যজ্ঞ করে এই অস্থায়ী সদর দফতরের উদ্বোধন করেছিলেন। লিফট, সিসিটিভি, কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বৈঠকের জন্য ছোট ছোট আধুনিক ঘর—সব মিলিয়ে একেবারে কর্পোরেট ধাঁচে চলত এই দলীয় কার্যালয়।

ভাড়ার মেয়াদ নিয়ে টানাপোড়েন:
মালিকপক্ষের দাবি: ২০২৫ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের সঙ্গে এই বাড়ির ভাড়ার চুক্তি ছিল। মেয়াদ ফুরানোর পর মুখে বলে আরও কয়েক মাস ঘরগুলি রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই বর্ধিত সময়সীমাও পার হয়ে গিয়েছে। বাড়ির অধিকার ফিরে পেতে গত কয়েকদিন ধরে মালিক মন্টু সাহাকে বারবার দলীয় কার্যালয়ে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকতে হয়েছে। সোমবার তিনি দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সঙ্গেও দেখা করেন।
​তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি: দলের একাংশের দাবি, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত বাড়ির ভাড়া মেটানো রয়েছে এবং চুক্তির মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। এই বিষয়টি স্থানীয় থানাকেও জানানো হয়েছে এবং বাড়ির মালিকের সঙ্গেও কথা চলছে।

ভাঙনের আবহে আক্ষেপ বাড়ির মালিকের
​চুক্তির মেয়াদ নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন চললেও, মঙ্গলবার বাড়ির আংশিক অংশ খালি করার কাজ কিন্তু আটকানো যায়নি। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার কার্যালয়ে এসে কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে তৃণমূলের এই বর্তমান রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ ও আক্ষেপ করতে দেখা যায় প্রবীণ বাড়ির মালিক মন্টু সাহাকে।
​রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে ভোটের ভরাডুবি আর অন্যদিকে একের পর এক বিধায়কের দলবদল—এই জোড়া ফলায় যখন তৃণমূলের অস্তিত্ব সংকটে, তখন বাইপাসের এই ঝাঁ-চকচকে কার্যালয় হাতছাড়া হওয়া দলের কর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *