মৌলবাদীদের চাপ! বাংলাদেশে বিশ্বের বৃহত্তম রামমূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত, সরব তসলিমা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- ফের উত্তপ্ত বাংলাদেশ! তারেক জমানাতেও সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ চিত্র সামনে এল। ইসলামপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বন্ধ হল বিশ্বের বৃহত্তম ৮২ ফুটের রামমূর্তি নির্মাণ। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলায় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গনে এই মূর্তি নির্মাণের কাজ চলছিল। সেই কাজ অনেক দূর এগিয়েছিল। তার মধ্যেই মন্দিরের উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, বিশেষ কারণে রামমন্দির নির্মাণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মৌলবাদীদের কথা উচ্চারণ করেননি তিনি। তবে এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলিতেও আচমকা মূর্তি নির্মাণ স্থগিতের খবর প্রকাশিত হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, রামমূর্তি নির্মাণ শুরুর পর থেকেই ইসলামপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি নানাভাবে বাধাদান করছিল। মন্দিরের অর্থায়ন নিয়ে তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। সেই বিরোধিতা ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসতে বাধ্য হল মন্দির কমিটি। তবে এই বিষয়ে সরব হয়েছে বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন।
তসলিমার প্রশ্ন, বাংলাদেশে লক্ষাধিক মসজিদ রয়েছে। নতুন নতুন মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। তাহলে একটি রাম মন্দির ও রামের মূর্তি নিয়ে নিয়ে এত আপত্তি কেন? তাঁর প্রশ্ন, ধর্মীয় স্বাধীনতা যদি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, তাহলে তা শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্য নয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও সমানভাবে নিশ্চিত হওয়া উচিত।” লেখিকার কড়া মন্তব্য, “পলাশবাড়ির নির্মীয়মান রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে যে ধরনের উসকানি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আসছে তা উদ্বেগজনক। শুধুমাত্র মতভেদের কারণে অন্য সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ধ্বংস করার অধিকার কারুর নেই।
পলাশবাড়ি এলাকায় অতীতে হিন্দু মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে। সে কথাও উল্লেখ করেছেন তসলিমা। নতুন করে রামমূর্তি নির্মাণে বাধা দেওয়ার ঘটনায় হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লেখিকা। এদিকে এখনও নিশ্চুপ স্থানীয় প্রশাসন। তবে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘ব্লিটজ’-এর সম্পাদক। তিনি দাবি করেছেন, স্থানীয় জেহাদি ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির ব্যাপক ভাবে বিক্ষোভ চালানোর পরেই রামমূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত করা হয়েছে। অসমাপ্ত রামমূর্তিটি ভেঙে ফেলারও দাবি তুলছে মৌলবাদীরা।
