আজকের দিনেতিলোত্তমা

গরমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে কলকাতা পুলিশের নতুন গোয়েন্দারা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: অপরাধ করে পার পাওয়ার চশমাদারি এবার আর খাটবে না। অপরাধী যতই চতুর হোক না কেন, ঘটনাস্থলে নিজের অজান্তেই রেখে যাওয়া শরীরের গন্ধই ডেকে আনবে তার বিপদ। আর সেই গন্ধ শুঁকে নিখুঁতভাবে খুনির ডেরায় পৌঁছে যাবে কলকাতা পুলিশের ‘ট্র্যাকার ডগ’ বা অপরাধী সন্ধানী কুকুর। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগকে আরও শক্তিশালী করতে শীঘ্রই কলকাতা পুলিশে যোগ দিতে চলেছে আরও দুটি দুঁদে ‘ট্র্যাকার ডগ’। বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের টেকানপুরে বিএসএফের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চরম আবহাওয়ায় চলছে তাদের কঠোর কসরত।

৪৬ ডিগ্রি গরমেও চলছে কড়া ট্রেনিং
​লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ডগ স্কোয়াডের শক্তি বাড়াতে মোট ৬টি সারমেয় শাবককে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। গোয়ালিয়রের টেকানপুরে বিএসএফের নামী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বর্তমানে চলছে তাদের পাঠক্রম। এই মুহূর্তে সেখানকার তাপমাত্রা প্রায় ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। কিন্তু প্রতিকূল ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও যাতে এই গোয়েন্দারা মানিয়ে নিতে পারে, তার জন্য এই তীব্র তাপদাহের মাঝেই তাদের বাইরে বের করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
​এই ৬টি সদস্যের দলে রয়েছে চারটি ল্যাব্রাডর এবং দুটি ককার স্প্যানিয়েল প্রজাতির কুকুর। এদের মধ্যে দুটি ল্যাব্রাডরকে বিশেষভাবে তৈরি করা হচ্ছে খুনি বা অপরাধী ধরার ‘ট্র্যাকার ডগ’ হিসেবে। বাকি দুটি ল্যাব্রাডর এবং দুটি ককার স্প্যানিয়েলকে দেওয়া হচ্ছে ‘বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ’ বা স্নাইফার ডগের প্রশিক্ষণ।

কেন ট্র্যাকার ডগের ওপর বাড়তি জোর?
​বর্তমানে কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডে যে সদস্যরা রয়েছে, তাদের সিংহভাগই ‘বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ’। সাধারণত ভিআইপি বা ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার খাতিরে বা কোনো সন্দেহজনক বস্তুর হদিশ মিললে এই বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ কুকুরদের ব্যবহার করা হয়। কিন্তু খুন বা বড়সড় ডাকাতির মতো অপরাধের কিনারা করতে ‘ট্র্যাকার ডগ’-এর ভূমিকা অপরিহার্য।
​কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডে বর্তমানে অপরাধী ধরার জন্য মাত্র দুটি ট্র্যাকার ডগ রয়েছে। বিশাল এই মহানগরের অপরাধ দমনে এই সংখ্যাটা যে যথেষ্ট নয়, তা ভালোই বুঝছিলেন লালবাজারের কর্তারা। সেই খামতি পূরণ করতেই এই নতুন দুই সদস্যকে আনা হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করে ট্র্যাকার ডগ?
লালবাজারের গোয়েন্দাদের মতে, খুনি বা অপরাধীরা ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় অনেক সময় নিজেদের ব্যবহৃত কোনো জিনিস ফেলে যায়। আবার অনেক সময় ঘরের বাতাসে বা মেঝেতে তাদের শরীরের গন্ধ থেকে যায়। ট্র্যাকার ডগদের সেই গন্ধ শোঁকানো মাত্রই তারা ধরে ফেলে অপরাধী কোন রুট বা রাস্তা দিয়ে চম্পট দিয়েছে। সেই গন্ধের রুট ধরেই পুলিশ অনায়াসে পৌঁছে যায় অপরাধীর দোরগোড়ায়।

জুলাইয়ের মধ্যেই কলকাতায় যোগদানের সম্ভাবনা
​আশা করা হচ্ছে, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই এই নতুন চারপেয়ে গোয়েন্দাদের প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ হবে। ট্রেনিং শেষ হওয়া মাত্রই তারা সরাসরি চলে আসবে কলকাতায় এবং যোগ দেবে লালবাজারের ডগ স্কোয়াডে। জুলাইয়ের মধ্যে চারজন ‘বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ’ এবং তার কিছুদিনের মধ্যেই দুই ‘খুনি ধরা’ ট্র্যাকার ডগ স্কোয়াডে যোগ দিলে, কলকাতা পুলিশের অপরাধ দমন শাখা যে অনেকটাই অক্সিজেন পাবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *