আজকের দিনেবাংলার আয়না

রেণুর ভরসা এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

পূর্ব বর্ধমান: স্বামীর হাতে কবজি হারিয়েও যিনি হার মানেননি, হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই বাম হাতে লিখে লড়াইয়ের শপথ নিয়েছিলেন— সেই রেণু খাতুন আজ ফের অনিশ্চয়তার মুখে। সরকারি চাকরির পরীক্ষার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ায় নতুন করে আশঙ্কার মেঘ দেখছেন পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের এই লড়াকু কন্যা।
​চার বছর আগে কেতুগ্রামের চিনিসপুর এলাকার বাসিন্দা রেণু খাতুনের জীবন এক লহমায় বদলে গিয়েছিল। জেএনএম পাশ করে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল সরকারি নার্স হওয়ার। স্বাস্থ্য দপ্তরের নার্স নিয়োগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর যখন বাড়িতে ভেরিফিকেশনের চিঠি আসে, ঠিক তখনই ঘটে সেই নারকীয় ঘটনা। স্ত্রী চাকরি করলে তাঁকে ছেড়ে চলে যাবেন— এই অমূলক আশঙ্কায় রেণুর স্বামী সরিফুল শেখ ঘুমন্ত স্ত্রীর ডান হাতের কবজি কেটে নেয়।
ঘটনার বীভৎসতা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্যকে। কিন্তু দমে যাননি রেণু। সুস্থ হওয়ার আগেই হাসপাতালের বিছানায় বসে বাম হাতে লেখা অভ্যাস শুরু করেন তিনি। তাঁর অদম্য জেদ দেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন, পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন এবং তাঁর কৃত্রিম হাতের (প্রস্থেটিক কসমেটিক হ্যান্ড) ব্যবস্থাও করে দেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে স্বাস্থ্য দপ্তরে চাকরিতে নিয়োগ করা হয়।
​​বর্তমানে রেণু যখন তাঁর কাজের মাধ্যমে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার লড়াই চালাচ্ছেন, তখনই এক নতুন জটিলতা সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, এসআইআর (SIR) বা সার্ভিস ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে রেণুর নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে তাঁর চাকরির ভবিষ্যৎ বা পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
​সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রেণু জানান, “আমি অনেক লড়াই করে আজ এখানে পৌঁছেছি। কেন তালিকা থেকে নাম বাদ গেল তা বুঝতে পারছি না।” তবে এত বাধার পরেও তিনি ভেঙে পড়েননি। চার বছর আগের মতোই আজও তাঁর শেষ ভরসা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিশ্বাস, মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চয়ই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং অতীতে যেমন পাশে ছিলেন, এবারও তাঁকে নিরাশ করবেন না।
​রেণু খাতুন আজ বাংলার অগণিত লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত নারীর কাছে এক অনুপ্রেরণা। কবজি হারানো হাত নিয়ে যে লড়াই তিনি শুরু করেছিলেন, বর্তমান প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে সেই লড়াইয়ে তিনি আবারও জয়ী হবেন কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *