ভরা বৈঠকে ‘বাড়ি চলে যান’ ধমক মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির মাঝেই নির্বাচন কমিশনের অন্দরে নজিরবিহীন সংঘাতের চিত্র প্রকাশ্যে এল। কোচবিহার দক্ষিণের সাধারণ পর্যবেক্ষক (জেনারেল অবজারভার) অনুরাগ যাদবকে ভরা ভার্চুয়াল বৈঠকে অপমান করার অভিযোগ উঠল খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। অপমানের মুখে চুপ না থেকে খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পালটা কড়া জবাব দিলেন প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অনুরাগ যাদব।
আগামী বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর সাধারণ পর্যবেক্ষকদের নিয়ে বুধবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছিল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের প্রত্যেকটিতে একজন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে কমিশন। সেই বৈঠক চলাকালীনই এই বেনজির তরজার সূত্রপাত হয়। বৈঠক চলাকালীন আচমকাই কোচবিহার দক্ষিণের পর্যবেক্ষক অনুরাগ যাদবকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রশ্ন করেন, “আপনার কেন্দ্রে কতগুলি বুথ রয়েছে?” এই আকস্মিক প্রশ্নে প্রথমে ঘাবড়ে যান ওই আমলা এবং কিছুটা তোতলাতে শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ পর তিনি উত্তর দেন, তাঁর কেন্দ্রে ১২৫টি বুথ রয়েছে। অনুরাগের এই ভূমিকায় দৃশ্যতই বিরক্ত হন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য আধিকারিকদের সামনেই তিনি অনুরাগকে নির্দেশ দেন কাজ ছেড়ে বাড়ি চলে যাওয়ার। তিনি সরাসরি বলেন, ‘গো ব্যাক টু হোম’ (বাড়ি চলে যান)।
অনুরাগ যাদব একজন সিনিয়র আইএএস অফিসার এবং প্রবীণ আমলা। দুই রাজ্যের পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে এহেন অপমান তিনি একেবারেই মেনে নেননি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ওই মন্তব্যের পরই তিনি পালটা জবাব দেন। ভরা বৈঠকেই তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় বলে ওঠেন, “২৫ বছর সার্ভিস করছি। আপনি এভাবে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না।”
প্রবীণ এই আমলার এমন পালটা জবাবের পর ভার্চুয়াল বৈঠকে চরম অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। জানা গিয়েছে, ওই মন্তব্যের পর কয়েক সেকেন্ডের জন্য গোটা বৈঠক একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও এই বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করেননি। কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর তিনি নিজেই অন্য প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। নির্বাচনের ঠিক মুখে কমিশনের অন্দরে, খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও তাঁরই নিয়োগ করা সাধারণ পর্যবেক্ষকের মধ্যে এই প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন ফেলেছে।
