আজকের দিনেতিলোত্তমারাজনীতি

দল ভাঙছে তবু ভাইপো-স্নেহে বিভোর মমতা, প্রশ্নে নেত্রীর নিরবতা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- ভোটে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের কেন্দ্রে এখন একজনই, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ক থেকে সাংসদ, কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর পর্যন্ত আদি তৃণমূল নেতাদের রাগ-অভিমান সবটাই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে ঘিরে। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও ‘চুপ’। দলের ভাঙন ঠেকাতে কেন নেত্রী পদক্ষেপ করছেন না, উঠছে সেই প্রশ্ন।

ভোটে হারার পর দলের একাংশের ক্ষোভের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যামাক স্ট্রিটের ফতোয়া, আইপ্যাকের দাপট, স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ নিয়ে মুখ খুলছেন মমতার দীর্ঘদিনের সৈনিকরা। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহ। তৃণমূলের জন্মলগ্নের আগে থেকে মমতার সঙ্গী কল্যাণ সাফ বলেছেন, “হয় অভিষেক, নয় আমি”। তাঁর দাবি, সৎ জীবনযাপন করেও ‘চোর চোর’ শুনতে হচ্ছে।

শুধু কল্যাণ নন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, অনুব্রত মণ্ডল, সুখেন্দু শেখর রায়ের মতো আদি নেতারাও অভিষেকের উপর রুষ্ট। তাঁদের অভিযোগ, নেত্রী ভাইপোকে আগলে রাখছেন। কল্যাণের ক্ষোভ প্রকাশের পর শুক্রবার তিনি বাড়ি থেকে বের হননি। মমতাও ফোন করেননি তাঁকে।

এদিকে অভিষেক বলেছেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার আছে আমাকে কটু কথা বলার। উনি আমাকে ছোট থেকে মানুষ করেছেন। আমিও ওঁকে সম্মান করি।” পাল্টা কল্যাণের জবাব, “অভিষেক আমার সন্তানের মতো। ও যদি ভুল বুঝতে পারে, তাহলে বুকে জড়িয়ে ধরব। দিদির সঙ্গে আছি। সামনে বড় লড়াই। অভিষেককে সেটা বুঝতে হবে।”

রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, বিদ্রোহটা শুরুতে ছিল সদ্য আসা নেতাদের মধ্যে। কিন্তু কল্যাণের মতো আদি নেতা যখন মুখ খোলেন, তখন বোঝা যায় অভিষেক দলে কতটা ‘আনপপুলার’।

দল চুরমার হচ্ছে, আদি সৈনিকরা একে একে মুখ খুলছেন, তবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক-স্নেহে অনড়। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে বার্তা দেওয়ার দাবি উঠলেও নেত্রী নীরব। রক্তের সম্পর্ক না একান্ত সৈনিক, মমতা কাকে বাছবেন সেই দিকেই এখন তাকিয়ে তৃণমূল শিবির। এই নিরবতা দলের ক্ষত আরও বাড়াবে না কি সমাধানসূত্র বেরবে, সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *