সরকারি বাসে মহিলাদের ফ্রি যাত্রা চালু, বাসে উঠে নিজেই যাচাই করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রেখে ১ জুন থেকে রাজ্যে সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালু হয়েছে। সোমবার দুপুরে গড়িয়াহাট থেকে রুবিগামী সরকারি বাসে উঠে সেই পরিষেবা সরেজমিনে খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মহিলা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজে ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ কাটেন।
নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অন্যতম বড় ঘোষণা ছিল সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা। দু’মাসের মধ্যেই ইস্তেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে পয়লা জুন থেকে গোটা রাজ্যে চালু হয়েছে এই পরিষেবা। নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের স্বীকৃত বৈধ পরিচয়পত্র দেখালেই মহিলারা সরকারি বাসে ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ পাবেন এবং নিখরচায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।তবে মাঠপর্যায়ে নির্দেশিকা মানা হচ্ছে কি না, কোনও মহিলাকে টিকিট কাটতে হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে সোমবার দুপুরে আচমকা গড়িয়াহাট মোড়ে পৌঁছে যান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রুবিগামী একটি সরকারি বাসে যাত্রী তোলার সময় কনডাক্টর যখন হাঁকছিলেন, ঠিক তখনই মন্ত্রী উঠে পড়েন বাসে। সঙ্গে সাংবাদিকরাও। প্রথমে খানিকটা হকচকিয়ে গেলেও পরে বিষয়টি পরিষ্কার হয় বাসকর্মীদের কাছে।বাসে উঠে এক মহিলা যাত্রীর পাশের সিটে বসে অগ্নিমিত্রা সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন, ‘টিকিট কাটতে হচ্ছে না তো?’ এরপর কনডাক্টরের কাছ থেকে নিজেও ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ সংগ্রহ করেন। গড়িয়াহাট থেকে রুবি পর্যন্ত গোটা রাস্তা তিনি বাসে চেপেই সফর করেন। যাত্রাপথে একাধিক মহিলা যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন। বাসের ভেতরেই এক কর্মজীবী মহিলা জানান, “রোজ অফিস যেতে ৮০ টাকা ভাড়া লাগত। মাসে প্রায় ২০০০ টাকা বেঁচে যাবে। সংসারে অনেকটা সুরাহা হবে।” আরেক কলেজ পড়ুয়া বলেন, “টিউশন যাওয়ার খরচ বাঁচবে, বই কিনতে পারব।” মন্ত্রীর সামনেই সরকারি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান অধিকাংশ মহিলা যাত্রী। তবে দু’একজন অভিযোগ করেন, সকালে ভিড়ের সময়ে কিছু বাসে ‘জিরো টিকিট’ দিতে দেরি হচ্ছে। মন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে কনডাক্টর ও ড্রাইভারকে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন।পরিবহন দপ্তর সূত্রে খবর, প্রথম দিনেই কলকাতা ও জেলাগুলিতে বিপুল সাড়া মিলেছে। শুধু কলকাতায় সকাল ১১টা পর্যন্ত ১.২ লক্ষের বেশি ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ ইস্যু হয়েছে। যাত্রী সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ রুটে অতিরিক্ত বাস নামানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
পরে রুবিতে নেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘সরকার নির্দেশিকা দিয়েই খালাস হলে হবে না। কাজটা হচ্ছে কি না, দেখার দায়িত্বও আমাদের। আজ বাংলার মহিলারা উপকৃত হচ্ছেন, এটাই সরকারের সার্থকতা। এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁদের কাছে ৫০-১০০ টাকা অনেকটা। তাঁরা সরকারি উদ্যোগে সুবিধা পাচ্ছেন।’ তিনি আরও জানান, আগামী দিনে জেলায় জেলায় আচমকা পরিদর্শন চলবে যাতে কোথাও কোনও মহিলা হয়রানির শিকার না হন।
