আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নারাজনীতি

TMC : এমএলএ হস্টেলে বহিষ্কৃত ঋতব্রত-সন্দীপনের সঙ্গে জাভেদ-শিউলির বৈঠক, ভাঙ্গনের ইঙ্গিত তৃণমূলে !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে । সোমবার রাতে কলকাতার এমএলএ হস্টেলে বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করলেন জাভেদ খান, শিউলি সাহা-সহ অন্তত ১৫-১৬ জন বিধায়ক। সূত্রের খবর, ঋতব্রতকে দলনেতা করে ‘প্রকৃত তৃণমূল’ নামে মঙ্গলবারই ৫০ জন বিধায়ক স্পিকারের কাছে চিঠি দিতে পারেন। ‘বিধায়ক বহিষ্কৃত নয়, দল থেকে বহিষ্কৃত’ বলে জল্পনা উসকে দিলেন শিউলি সাহা।

উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টালির সন্দীপন সাহাকে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর থেকেই দলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছিল। সোমবার সেই অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খান ও শিউলি সাহা।

সূত্রের খবর, এদিন প্রথমে বাইপাসের ধারে একটি ঘরে বৈঠক হয়। পরে সন্ধ্যায় কলকাতার এমএলএ হস্টেলে ফের বৈঠকে বসেন ঋতব্রত-সন্দীপন। সেই বৈঠকে মালদহ, মুর্শিদাবাদের বিধায়করা-সহ জাভেদ খান, শিউলি সাহা উপস্থিত ছিলেন। মোট ১৫-১৬ জন বিধায়ক হাজির ছিলেন বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে হস্টেল থেকে বেরনোর সময় শিউলি সাহা বলেন, “হস্টেলে নিজের ঘর দেখতে এসেছিলাম। দেখলাম, ঋতব্রত-সন্দীপনরা বসে। একটু চা খেয়ে গেলাম।” এরপরই তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, “বিধায়ক বহিষ্কৃত নয়। দল থেকে বহিষ্কৃত।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক মঙ্গলবারই বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিতে পারেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতা করে ‘প্রকৃত তৃণমূল’ বলে দাবি তুলবেন তাঁরা। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে বহিষ্কারের পর একের পর এক বোমা ফাটাচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “উলুবেড়িয়া পুরসভায় ১০ হাজার ঘর চুরি হয়েছে। টেন্ডার ডাকা হয়নি।” দুর্নীতির তথ্য নিয়ে তদন্ত চাইবেন বলে জানান তিনি। ঋতব্রতের দাবি, “প্রাণের ভয়ে সরকারে থাকাকালীন মুখ খুলতে পারিনি। এখন তৃণমূল সরকারে নেই বলে বলতে পারছি। সরকারকে দুর্নীতির বিষয়ে লিখে জানাব।”

উল্লেখ্য, রবিবার তৃণমূল সুপ্রিমোর ডাকা বৈঠকেও গরহাজির ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক। ফলে বৈঠক ভেস্তে যায়। দলের থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন অনেকেই। তার মধ্যেই এমএলএ হস্টেলের এই বৈঠক ভাঙনের জল্পনাকে আরও উসকে দিল।

ঋতব্রত-সন্দীপনকে বহিষ্কারের পর তৃণমূলের ঘরোয়া কোন্দল প্রকাশ্যে। জাভেদ খান, শিউলি সাহা-সহ একাধিক বিধায়কের বৈঠক এবং ‘প্রকৃত তৃণমূল’ গড়ে স্পিকারের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ৫০ জন বিধায়ক সত্যিই দল ছাড়লে তৃণমূলের বড়সড় ভাঙন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *