Peace Deal : শান্তিচুক্তিতে বাধা ইরানের কট্টরপন্থীরা, নিশানায় মোজতবা খামেনেই !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তির দোরগোড়ায় পৌঁছেও বারবার পিছিয়ে আসছে ইরান। বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে দেশটির কট্টরপন্থী শিবির। সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই আলোচনার পক্ষে থাকলেও তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে বিরোধী গোষ্ঠী। ফলে চুক্তি হলে ইরানের অন্দরেই অশান্তির আশঙ্কা বাড়ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার সঙ্গে কোনওরকম শান্তি চুক্তির ঘোর বিরোধী ইরানের কট্টরপন্থীদের বড় অংশ। সংসদের একাধিক সদস্য ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা আছেন এই তালিকায়। জনসভা ও সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে লাগাতার চাপ তৈরি করছেন তারা। এর জেরেই শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যাচ্ছে চুক্তি।
পরিস্থিতি দেখে সতর্ক ওয়াশিংটনও। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ২ ঘণ্টা বৈঠক করেও ইরান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অন্যদিকে তেহরান থেকে আসছে পাল্টা হুঁশিয়ারি। শীর্ষ নেতা বাঘের ঘালিবাফ জানিয়েছেন, ইরান আমেরিকাকে বিশ্বাস করে না। প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান বলেছেন, আগে আয়াতোল্লা খামেনেই আলোচনার পক্ষে থাকলেও এখন আর সেই জায়গা নেই। বহু শীর্ষ আধিকারিক প্রকাশ্যে আমেরিকাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার কথা বলছেন।
এরই মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে নিশানা করেছেন কট্টরপন্থীরা। বৃহস্পতিবার রক্ষণশীল ধর্মগুরু ও আইনপ্রণেতা হামিদ রাসাই ‘সর্বোচ্চ নেতৃত্বের যোগ্য কে’ শিরোনামে বার্তা দেন। সেখানে নবী নূহের পুত্রের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, ‘তিনি ছিলেন একজন অবিশ্বাসী এবং বিদ্রোহী কুলাঙ্গার। ফলে পারিবারিক সম্পর্ক থাকলেই যে কেউ ধার্মিক হবে, এমনটা নয়।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তার নিশানা সরাসরি মোজতবা।
একদিকে মোজতবা খামেনেইয়ের নেতৃত্বে একটি অংশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাইছে। অন্যদিকে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে মগ্ন কট্টরপন্থীরা যুদ্ধের পক্ষে সওয়াল করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টানাপড়েনে তেহরান আপসের পথে হাঁটলে দেশের ভেতরেই বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে। তাই আপাতত শান্তিচুক্তি থেকে অনেকটাই দূরে দাঁড়িয়ে ইরান।
