আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম! জুন থেকে একধাক্কায় কমছে ডোমেস্টিক ফ্লাইট
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার লাগাতার রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্বজুড়ে তীব্র হয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। আর তার সরাসরি বড়সড় প্রভাব এবার পড়তে চলেছে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবায় । এটিএফ বা বিমানের জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম এবং উড়ান সফরের চাহিদা হ্রাসের কারণে আগামী জুন থেকে অগস্ট— এই তিন মাস ডোমেস্টিক ফ্লাইটের সংখ্যা একধাক্কায় অনেকটাই কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের দুই বৃহৎ বিমান সংস্থা ‘ইন্ডিগো’ এবং ‘এয়ার ইন্ডিয়া’।
হিসেব অনুযায়ী, আগামী মাস থেকে দেশজুড়ে প্রতিদিন অন্তত ২৫০টি উড়ান বাতিল হতে চলেছে। গরমের ছুটির মরশুমে বিমান সংস্থাগুলির এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে চলেছেন সাধারণ যাত্রীরা। একই সঙ্গে কমে যাবে সস্তার টিকিট, ফলে বিমান যাত্রার খরচ একলাফে অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোন সংস্থা কত শতাংশ উড়ান ছাঁটাই করছে?
জ্বালানির খরচ সামাল দিতে দুই বিমান সংস্থাই তাদের রুট পুনর্বিন্যাস করছে। যে সমস্ত রুটে যাত্রী সংখ্যা কম বা লাভ কম হচ্ছে, আপাতত সেই উড়ানগুলিই বাতিলের তালিকায় রাখা হয়েছে।
-
এয়ার ইন্ডিয়া: বর্তমানে তারা দিনে প্রায় ৫০০টি বিমান চালায়। জুন থেকে তারা অভ্যন্তরীণ উড়ানের সংখ্যা ২০ থেকে ২২ শতাংশ কমিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ, দিনে অন্তত ১১০টি উড়ান কম চালাবে এই সংস্থা। পাশাপাশি তাদের সহযোগী সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস’-ও ১০ শতাংশ উড়ান কমাবে।
-
ইন্ডিগো: দেশের বৃহত্তম এই বিমান সংস্থাটি দিনে প্রায় ২২০০টি উড়ান পরিচালনা করে। তারা তাদের মোট উড়ানের সংখ্যা ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ইন্ডিগোরও দিনে অন্তত ১১০ থেকে ১২০টি উড়ান বাতিল হবে।
বিমানের জ্বালানি যেন ‘সোনার হরিণ’: এক নজরে দামের খতিয়ান
উড়ান সংস্থাগুলির সূত্রের দাবি, বিমানের জ্বালানি বা ‘অটোমেটিক ট্রান্সমিশন ফ্লুইড’ (ATF)-এর মূল্যবৃদ্ধির কারণেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
দামের গ্রাফ: কিছুদিন আগেও যে এটিএফ-এর দাম প্রতি কিলোলিটারে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা ছিল, তা বর্তমানে (কলকাতায়) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০৯,৪৫০ টাকায়। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রাজ্যগুলির চড়া যুক্তমূল্য কর বা ভ্যাট (VAT)। ফলে বিমান চালানো কার্যত লোকসানের সামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোন কোন শহরের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কাটছাঁটের ফলে দেশের মেট্রো শহরগুলির যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন। তবে কোনও গন্তব্যেই পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না, কেবল দৈনিক ট্রিপের সংখ্যা কমানো হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলি হলো মুম্বই, দিল্লি ও বেঙ্গালুরু । মুম্বই থেকে সংযোগকারী রুট যেমন জয়পুর, গোয়া, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, আমেদাবাদ, নাগপুর, পাটনা ও ভোপাল এই জায়গাগুলিতে প্রভাব পড়বে। আবার কলকাতার ওপর প্রভাব পড়বে অনেকটাই।কারণ দিল্লি-কলকাতা রুটে উড়ান সংখ্যা কমবে। তবে অন্যান্য রুটে কলকাতার যাত্রীরা খুব বেশি বিপাকে পড়বেন না বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে তীব্র গরম আর অন্যদিকে বিমান বাতিলের হিড়িক ও টিকিটের বাড়তি দাম— দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে আগামী তিন মাস আমজনতার আকাশযাত্রা যে বেশ কষ্টদায়ক হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
