পালাবদলের পরেই পাহাড়ে নয়া সমীকরণ, নবান্নে গুরুং-রোশনদের সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই বদলাচ্ছে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা। পাহাড়ের উন্নয়নে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন নবান্নে পাহাড়ের সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে হাজির ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তাও। আলোচনার পর পাহাড়বাসীর নাগরিক পরিষেবা অব্যাহত রাখতে আপাতত দার্জিলিং ছাড়া তিন পুরসভা – কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিকে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, গুরুং ও রোশনদের দাবি মেনে পাহাড়ে উন্নয়নের জন্য কাজের রাস্তা পরিষ্কার করা হল। পাহাড় উন্নয়নের বিশেষ পরিকল্পনা বাবদ ৩ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, “জিটিএ-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শামা পারভীনকে বলেছি, বিধায়ক-সাংসদদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে। এতদিন প্রতি অর্থবর্ষে পাহাড়ের জন্য নির্দিষ্ট টাকা বরাদ্দ করা হলেও কোনও কাজ করতে পারেনি জিটিএ।”
২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে পাহাড়জুড়ে কার্যত পদ্ম ফুটেছে। দার্জিলিং ও সংলগ্ন এলাকা বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ে এবার শামিল হয়েছেন পাহাড়বাসীও। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পাহাড়ের পুরনো সমীকরণ ভেঙে নতুন জোট তৈরির ইঙ্গিত মিলল এদিনের বৈঠকে।
পাহাড়ে উন্নয়নের জন্য বিপুল বরাদ্দ ও তিন পুরসভায় প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্তে নতুন করে আশার আলো দেখছেন পাহাড়বাসী। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর গুরুং-রোশন শিবিরের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সমন্বয় আরও মজবুত হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
