এবার উত্তর বারাকপুর পুরসভায় চেয়ারম্যানসহ ১৫ কাউন্সিলরের গণ-ইস্তফা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বারাকপুর: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভরাডুবি এবং গেরুয়া ঝড়ে ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের পতনের পর, এবার রাজ্যের পুরসভাগুলিতেও শুরু হলো চরম ধস। লোকসভার পর বিধানসভাতেও পুর এলাকায় দলের শোচনীয় ফলাফলের দায় স্বীকার করে এবার একযোগে ইস্তফা দিলেন উত্তর বারাকপুর পুরসভার পুরপ্রধানসহ ১৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলর! সোমবার এই নজিরবিহীন গণ-ইস্তফার জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরসভাটি, তৈরি হয়েছে তীব্র প্রশাসনিক শূন্যতা।
উত্তর বারাকপুরে নজিরবিহীন সংকট
২৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত উত্তর বারাকপুর পুরসভায় ইতিমধ্যেই ৩ জন কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। ফলে কার্যকর কাউন্সিলরদের মধ্যে একধাক্কায় ১৫ জন ইস্তফা দেওয়ায় পুরবোর্ড কার্যত অস্তিত্ব সংকটে পড়ে গেল। এলাকার মানুষের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং খারাপ ফলাফলের নৈতিক দায় নিজেদের কাঁধে নিয়ে পুরপ্রধান নিজেও পদত্যাগ করেছেন।
শিল্পাঞ্চলের একের পর এক পুরসভায় ধস
শুধু উত্তর বারাকপুরই নয়, ছাব্বিশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একের পর এক পুরসভায় ভাঙন ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, ভাটপাড়া, এবং গারুলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভাগুলিতেও তৃণমূল কাউন্সিলররা গণ-ইস্তফা দিয়েছেন। একের পর এক পুরবোর্ড ভেঙে পড়ায় রীতিমতো অশনি সংকেত দেখছে রাজনৈতিক মহল।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: ‘জনবিচ্ছিন্নতা’ বনাম ‘নতুন সংগঠন’
এই গণ-ইস্তফা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। বিরোধীদের দাবি— দীর্ঘদিনের জনবিচ্ছিন্নতা, দুর্নীতি এবং তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলেই আজ তৃণমূলের এই পরিণতি এবং কাউন্সিলররা এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন। যদিও তৃণমূলের একাংশের দাবি, পরাজয়ের ধাক্কা সামলে সংগঠনকে একদম নতুনভাবে ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিতে গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ড্যামেজ কন্ট্রোলে মমতা, আজই কালীঘাটে জরুরি বৈঠক
এই মুহূর্তে রাজ্যের বেশিরভাগ পুরসভা তৃণমূলের দখলে থাকলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঝড়ে সব জায়গাতেই টালমাটাল অবস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত সপ্তাহেই কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে ‘মাটি আঁকড়ে’ পড়ে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর শহরতলির পুরসভাগুলিতে এই ধস রুখতে আজ, সোমবার বিকেলেই কালীঘাটের বাসভবনে একটি অত্যন্ত জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূলনেত্রী। এই বৈঠকে দমদম, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, বরাহনগর এবং বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের তলব করা হয়েছে। কিন্তু সেই বৈঠকের ঠিক আগেই উত্তর বারাকপুরের এই গণ-ইস্তফা দলীয় নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করে দিল।
এখন দেখার, কালীঘাটের এই হাইভোল্টেজ বৈঠক থেকে উত্তর শহরতলির পুরসভাগুলি বাঁচাতে কী দাওয়াই দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নাকি পুরসভা হাতছাড়া হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা!
