অভিষেকের বাড়িতে কলকাতা পুলিশের ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেআইনি নির্মাণ বিতর্ক থেকে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংযোগ— তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিনিকেতন বাড়ি ঘিরে এবার নাটকীয় মোড়! কলকাতা পুরসভার দেওয়া ‘ডেডলাইন’-এর দিন, সোমবার বিকেলে আচমকাই অভিষেকের হরিশ চ্যাটার্জি রোডের বাসভবনে পৌঁছে গেল কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ টিম। পুরসভার নোটিসের জবাবে অভিষেকের আবেদনের ভিত্তিতে যখন ১০ দিনের সময়সীমা বাড়ানো হলো, ঠিক সেই আবহেই পুলিশের এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
পুরসভার ডেডলাইনের দিনেই পুলিশের এন্ট্রি!
গত সোমবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি ঠিকানা— কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের (শান্তিনিকেতন) বাড়িতে নোটিস পাঠিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। বাড়ির কোনো বাড়তি অংশ নির্মাণের জন্য পুরসভার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে চাওয়ার পাশাপাশি শান্তিনিকেতনের বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নোটিসের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল আজ, সোমবারই।
রবিবারই পুরসভার কাছে জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ। সোমবার পুরসভা তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে ১০ দিন সময় বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু স্বস্তির মাঝেই বিকেলে হঠাতই অভিষেকের বাড়িতে পুলিশের গাড়ি ঢোকায় শোরগোল পড়ে যায়। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় পুলিশ আধিকারিকরা সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এটা কি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংক্রান্ত কোনো নতুন তদন্তের গতিবিধি, নাকি এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের আকস্মিক পরিদর্শন?
নজরে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ ও ১৭টি সম্পত্তি
সূত্রের খবর, হরিশ চ্যাটার্জি রোডের এই ‘শান্তিনিকেতন’ ভবনটি আদতে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস কোম্পানিরই সম্পত্তি। তৃণমূল জমানায় এই কোম্পানিকে ঘিরে অতীতেও একাধিক আর্থিক দুর্নীতির বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার শুধু এই বাড়িটিই নয়, পুরসভার আতশকাচের তলায় রয়েছে অভিষেকের আরও ১৭টি সম্পত্তি। ফলে চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে, তা স্পষ্ট।
সাংবাদিকদের ধমক থেকে সুর নরম!
দিনকয়েক আগেই কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বৈঠক সেরে বেরোনোর সময় পুরসভার নোটিস নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন অভিষেক। সেই সময় মেজাজ হারিয়ে গাড়ির কাচ নামিয়ে রীতিমতো আঙুল উঁচিয়ে ধমকের সুরে তিনি বলেছিলেন, “নির্দিষ্ট করে জেনে আসুন বাড়ির কোন অংশটা অবৈধ। তারপর আমাকে প্রশ্ন করুন, উত্তর দেব।”
অভিষেকের সেই ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ অবতার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যখন জোর চর্চা চলছে, তার ঠিক কয়েকদিনের মাথাতেই পুরসভার কাছে সময় চেয়ে চিঠি পাঠানো এবং সুর নরম করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই যেভাবে একের পর এক প্রথম সারির তৃণমূল নেতৃত্বের ওপর আইনি ও প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে, তাতে অভিষেকের বাড়ির এই পুলিশি আনাগোনা আগামী দিনে কোন বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত, এখন সেটাই দেখার।
