আজকের দিনেতিলোত্তমা

কলকাতায় বড়সড় নারী পাচার চক্রের পর্দাফাঁস!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাজের টোপ দিয়ে নেপাল থেকে কলকাতায় নিয়ে এসে তরুণীদের যৌনপল্লিতে বিক্রি! কলকাতার বুকে বড়সড় নারী পাচার চক্রের ছক বানচাল করল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। সোনাগাছি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নেপালের ৩ তরুণীকে। এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে। শহরের বুকে ফের এই ধরনের চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কাজের টোপ দিয়ে সোনাগাছিতে বিক্রি!

লালবাজার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলার নাম শোভা তামাং। সে কলকাতার নিষিদ্ধ পল্লি সোনাগাছির একটি বাড়ির দেখভাল করত। ওই বাড়িটিতে মূলত নেপালি বংশোদ্ভূত যৌনকর্মীদের যাতায়াত ছিল। আর সেই সুযোগ নিয়েই নেপালের প্রত্যন্ত গ্রামের ওই ৩ তরুণীকে কলকাতায় ভালো কাজের টোপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরল বিশ্বাসে কলকাতায় পা রাখতেই তাঁদের সোনাগাছির ওই বাড়িতে আটকে রেখে জোরপূর্বক বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

লালবাজারের ঝটিকা অভিযান

গোপন সূত্রে এই ভয়ঙ্কর পাচারের খবর পৌঁছায় লালবাজারের গোয়েন্দাদের কাছে। খবর পাওয়া মাত্রই রবিবার বিকেলে সোনাগাছি এলাকায় অতর্কিতে অভিযান চালায় গোয়েন্দা বিভাগ। প্রথমে নির্দিষ্ট বাড়িটিকে শনাক্ত করা হয় এবং সেখান থেকেই বন্দি দশা থেকে উদ্ধার করা হয় নেপালের ওই তিন তরুণীকে।

তরুণীদের উদ্ধার করার পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয় মূল অভিযুক্ত শোভা তামাংকে। উদ্ধার হওয়া তরুণীদের নেপালের বাড়ি কোথায়, কার মারফতে তাঁরা কলকাতায় এসেছিলেন এবং এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পাশাপাশি এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য নেপাল দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে লালবাজার।

৮ মাস আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি, নজরে আন্তর্জাতিক র‍্যাকেট

কলকাতায় নারী পাচারের ঘটনা এই প্রথম নয়। মাত্র ৮ মাস আগেই বড়তলা থানা এলাকায় একটি বড়সড় পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করেছিল পুলিশ, যেখানে একটি বাড়ি থেকে ৯ নাবালিকা সহ ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের এই হদিশ মেলায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পুলিশের।

গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রের সদস্যরা নেপালের বিভিন্ন গরিব গ্রামে গিয়ে মেয়েদের চাকরি বা ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এ রাজ্যে নিয়ে আসছে এবং তারপর তাঁদের অন্ধকার জগতে ঠেলে দিচ্ছে। এই রাজ্যের আর কারা কারা এই চক্রের সাথে যুক্ত এবং ভিনরাজ্যের বড় কোনো র‍্যাকেটের হাত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃত শোভা তামাংকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছে লালবাজারের গোয়েন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *