ঝুঁকিপূর্ণ ৭০ ফুটের মেসি মূর্তি! ভাঙার প্রস্তুতি লেকটাউনে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: হাওয়ায় দুলছে খোদ ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসির বিশাল মূর্তি! যে কোনো মুহূর্তে তা ভেঙে পড়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে— এই আশঙ্কায় এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন লেকটাউনের বাসিন্দারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি ময়দানে নেমেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল সরজমিনে খতিয়ে দেখতে এসেছেন পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি আধিকারিক এবং লেকটাউন থানার পুলিশ বাহিনী। সূত্রের খবর, বড় কোনো বিপদ এড়াতে সোমবার রাতেই হয়তো ভেঙে ফেলা হতে পারে এই বিতর্কিত মূর্তিটি।
কী ঘটেছিল?
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিনের ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ৭০ ফুটের এই বিশাল মূর্তিটি বিপজ্জনকভাবে দুলছে। শুধু তাই নয়, মূর্তিটির ঠিক নিচের অংশের মাটি বসে গিয়েছে, চারপাশ থেকে পাথর ও মাটি বেরিয়ে এসেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মূর্তির ঠিক নিচেই রয়েছে একটি বড় জায়ান্ট স্ক্রিন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সেখানে শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় করে চলতি আইপিএল-এর ম্যাচ দেখছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, খেলা চলাকালীন কোনোভাবে যদি এই ভারী মূর্তিটি ভেঙে পড়ে, তবে বহু মানুষের প্রাণহানি হতে পারে। এই মর্মে লেকটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
উদ্বোধন ও বিতর্কিত অতীত
উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর বিশেষ উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে এই মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছিল। বিখ্যাত শিল্পী মন্টি পালের নেতৃত্বে তৈরি এই মূর্তির ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেছিলেন খোদ লিওনেল মেসি। উদ্বোধনের সময় পাশে ছিলেন সুজিত বসুও। তবে উদ্বোধনের পর থেকেই মূর্তির মুখের আদল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও ট্রোল শুরু হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেরই দাবি ছিল, মূর্তির মুখের সাথে মেসির মুখের কোনো মিলই নেই।
তীব্র রাজনৈতিক তরজা
মূর্তির এই বিপজ্জনক অবস্থার পরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তৎকালীন পুরপিতা নিতাই দত্ত এবং সুজিত বসু তাড়াহুড়ো করে অত্যন্ত নিম্নমানের মালমশলা দিয়ে এই মূর্তি তৈরি করেছিলেন, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বর্তমান বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নজরেও বিষয়টি আনা হয়েছে। কাকতালীয়ভাবে, সম্প্রতি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির (ED) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন সুজিত বসু, আর তার পরেই তাঁর সাধের প্রজেক্টের এই দশা নিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এবার কি ভাঙার পালা?
প্রশাসনিক আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের পরিদর্শনের পর থেকেই জোরালো হচ্ছে মূর্তি ভাঙার জল্পনা। যদিও প্রশাসনের তরফ থেকে সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি, তবে মনে করা হচ্ছে সোমবার রাতের অন্ধকারেই ক্রেন এনে এই বিপজ্জনক কাঠামোটি নামিয়ে বা ভেঙে ফেলা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সামনের একটি ‘বিদঘুটে’ মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এবার কি তবে লেকটাউনের এই ত্রুটিপূর্ণ মেসি মূর্তিরও একই গতি হতে চলেছে? সেদিকেই নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের
