আজকের দিনেতিলোত্তমা

আর জি কর কাণ্ডে অভীক দে-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ রাজ্যপালের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- আর জি কর কাণ্ডে বিতর্কিত চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। অভয়া কাণ্ডের সময় সেমিনার রুমে দেখা গিয়েছিল এই অভীক দে-কে। জলঘোলা হওয়ায় এসএসকেএম হাসপাতালের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিকে আগেই সাসপেন্ড করে স্বাস্থ্যদপ্তর।

অভীক দে রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর প্রভাবশালী নেতা বলে পরিচিত। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী ‘অভয়া’র মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে তাঁর বিরুদ্ধে। জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের অভিযোগ, হাসপাতালে ‘থ্রেট কালচার’ চালাতেন অভীক। তাঁর কথার বাইরে গেলেই বদলির হুমকি, পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখানো হত। এমনকি চিকিৎসকদের পোস্টিং ও বদলির ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করতেন তিনি। সবচেয়ে বিতর্ক তৈরি হয় অভয়া কাণ্ডের সময়। ঘটনার দিন রাতে সেমিনার রুম অর্থাৎ অপরাধ স্থলে সিসিটিভি ফুটেজে অভীক দে-কে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ। একজন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি হয়ে তাঁর সেখানে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। কেন তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, কী করছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। চাপে পড়ে স্বাস্থ্যদপ্তর এসএসকেএম-এর ওই পডুয়া-চিকিৎসককে সাসপেন্ড করে।রাজভবন সূত্রে খবর, অভীক দে-র বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে জুনিয়র চিকিৎসক থেকে শুরু করে হাসপাতালের কর্মীরাও ছিলেন। সব অভিযোগ খতিয়ে দেখেই এবার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল। তদন্তে দুটি বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, আর জি কর কাণ্ডে অভীক দে-র ভূমিকা ঠিক কী ছিল। দ্বিতীয়ত, তিনি কীভাবে সার্ভিস কোটায় এসএসকেএমে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পেলেন। নিয়ম অনুযায়ী, সার্ভিস কোটায় ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট সময় সরকারি হাসপাতালে কাজ করার অভিজ্ঞতা লাগে। অভীকের ক্ষেত্রে সেই শর্ত মানা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। গোটা ঘটনায় স্বাস্থ্যভবনের আধিকারিকদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসবে।

আর জি কর কাণ্ডে অভীক দে-র নাম প্রথম থেকেই জড়িয়েছিল। সাসপেনশনের পর এবার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশে নতুন করে চাপে পড়লেন তিনি। সার্ভিস কোটায় ভর্তি নিয়েও তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় স্বাস্থ্য দপ্তরের নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত রিপোর্টে কী বেরিয়ে আসে, অভীকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে চিকিৎসক মহল ও রাজ্যের স্বাস্থ্য মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *