আজকের দিনেবাংলার আয়না

সোনা-নগদ-এসি-সিসিটিভি, কান্দিতে প্রাক্তন পুলিশকর্তার ‘দুর্গে’ ইডি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: সোনা পাপ্পু মামলায় গ্রেপ্তার কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহার মুর্শিদাবাদের কান্দির বিলাসবহুল বাড়ি বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তুতি শুরু করে দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তল্লাশিতে উদ্ধার ২ কেজিরও বেশি সোনা, নগদ ও সম্পত্তির কাগজপত্র।

জমি জবরদখল ও প্রতারণার মামলায় তদন্তে নেমে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহাকে গ্রেপ্তার করে ইডি। সোনা পাপ্পুর সঙ্গে যোগসাজস-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এরপরই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয় কান্দিতে তাঁর বিপুল সম্পত্তির ছবি। শুক্রবার কান্দি পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডে শান্তনুর পৈতৃক বাড়িতে তালা ভেঙে তল্লাশি চালান ইডির আধিকারিকরা। একইসঙ্গে কলকাতার বেশ কয়েকটি জায়গাতেও তল্লাশি চলে। তল্লাশিতে প্রায় দু’কেজিরও বেশি সোনা উদ্ধার হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এছাড়াও প্রচুর নগদ এবং সম্পত্তির কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকবছর আগেও বাড়িটির অবস্থা ভগ্নদশা ছিল। কিন্তু রাতারাতি বিলাসবহুলভাবে তৈরি করা হয় সেটিকে। ইডির দাবি, বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল টাকা সোনা পাপ্পুর কাছ থেকে এসেছে। কান্দি বিএলআরও অমিত বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রায় পঞ্চাশ শতক জমি রয়েছে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নামে। এই বাড়ি ছাড়াও আরও বেশ কিছু সম্পত্তির হদিশ মিলেছে।স্থানীয়দের দাবি, এই বাড়িতে মাঝেমধ্যে আসতেন শান্তনু। সেখানে থাকতেন তাঁর বোন গৌরী সিনহা বিশ্বাস, যিনি তৃণমূল পরিচালিত কান্দি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। বাড়ির তিনটি ঘর ছিল গৌরীর হেফাজতে। তালাবন্ধ বাকি ঘরগুলি থেকে নথি উদ্ধার হয়েছে। ওই বাড়িতে সাতটি দুই টনের এসি, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রডব্যান্ড যুক্ত নেটওয়ার্ক, ৮ ফুট উচ্চতার প্রাচীরের উপর কাঁটাতার ও চারিদিকে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি রয়েছে। ইডি জানিয়েছে, কলকাতায় বসে মোবাইলের মাধ্যমে কান্দির প্রাসাদের উপর নজরদারি চালাতেন শান্তনু।

সোনা পাপ্পু মামলায় প্রাক্তন পুলিশকর্তার গ্রেপ্তারির পর এবার তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু করল ইডি। উদ্ধার হওয়া সোনা, নগদ ও নথি এই মামলার তদন্তে বড় মোড় আনতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার সম্ভাবনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *