আজকের দিনেবাংলার আয়না

মধ্যমগ্রাম থেকে বসিরহাট, গুলি-বোমায় রক্তাক্ত জেলা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে দিন তিনেক আগে। আর মাত্র দু’দিন পরেই নতুন সরকারের শপথগ্রহণ। কিন্তু তার আগেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা। বুধবার রাতভর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলল গুলি ও বোমাবাজি। একদিকে মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, অন্যদিকে পানিহাটি ও বসিরহাটে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
​১. পানিহাটিতে মুহুর্মুহু বোমাবাজি, জখম ৭
​বুধবার রাতে দুষ্কৃতী তাণ্ডবে কেঁপে ওঠে পানিহাটির ২ নম্বর ওয়ার্ড। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পরপর তিনটি বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বোমার আঘাতে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিবেশ।
​২. বসিরহাটে বিজেপি কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি
​বসিরহাট থানার গোটরা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজীব কলোনি এলাকায় রাজনৈতিক পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, এলাকায় দলীয় পতাকা লাগানোর সময় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাতে বাধা দেয়। বচসা চলাকালীন আচমকাই বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ।
আহত: রোহিত রায় ওরফে চিন্টু নামে এক বিজেপি কর্মীর পেটে গুলি লেগেছে।  তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
​রাজনৈতিক চাপানউতোর: ‘সিংহ স্থবির নয়’
​এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্যর অভিযোগ, “ফল প্রকাশের পর থেকেই বেছে বেছে বিজেপি কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে।”
​অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন: ​”গতকাল রাতে বসিরহাটে আমাদের কর্মীকে লক্ষ্য করে ৪ রাউন্ড গুলি চলেছে। সিংহ স্থবির বলে যদি কেউ পদাঘাত করতে চান, তবে ভুল করছেন।”
​প্রশাসনের ভূমিকা
​মধ্যমগ্রামে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই উত্তপ্ত জেলা। পানিহাটি ও বসিরহাটের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই যেভাবে জেলাজুড়ে হিংসা ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট-পরবর্তী প্রতিহিংসা রুখতে প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয়, তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *