আজকের দিনেতিলোত্তমা

৩ মাসে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বড় নিয়োগের ঘোষণা শুভেন্দুর, জোর সম্পূর্ণ স্বচ্ছতায়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- রাজ্যের প্রশাসনিক রাশ হাতে নিতেই বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় সুখবর শোনালেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার এক ধাক্কায় মিটতে চলেছে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের দীর্ঘদিনের শূন্যপদ। নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল এবং প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তকে পাশে বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণা, আগামী ৩ মাসের মধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তবে এই মেগা নিয়োগের মূল শর্তই হলো—সম্পূর্ণ ‘স্বচ্ছতা’। আগের জমানার নিয়োগ জট ও বিতর্ক কাটিয়ে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে বদ্ধপরিকর নতুন বিজেপি সরকার।

পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলের অন্যতম প্রধান অভিযোগ ছিল নিয়োগ দুর্নীতি, যার আঁচ পড়েছিল স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও। সেই আটকে থাকা নিয়োগ দ্রুত শুরু করার ইঙ্গিত দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রকল্পগুলিতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মাত্র ৫৩ শতাংশ নিয়োগ হয়েছে, যা জাতীয় গড়ের (৯৮ শতাংশ) চেয়ে অনেক নিচে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়ায় গতি এনে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।

ওএমআর-এর কার্বন কপি ও নতুন নিয়োগ নীতি

শিয়ালদহে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত একটি রোজগার মেলায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগের সরকারের জমানার নিয়োগ দুর্নীতির কড়া সমালোচনা করেন। নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ রুখতে সরকার কী কী পদক্ষেপ করতে চলেছে, তার একটি রূপরেখা তিনি তুলে ধরেন:

  • কার্বন কপি দেওয়া বাধ্যতামূলক: মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওএমআর (OMR) পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলে পরীক্ষার্থীদের কার্বন কপি না দিয়ে রেখে দেওয়া হতো, যা দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের জায়গা তৈরি করত। নতুন নিয়মে পরীক্ষার্থীদের ওএমআর-এর কার্বন কপি দেওয়া হবে।

  • ইন্টারভিউয়ের নম্বর কমানোর সওয়াল: লিখিত পরীক্ষা ও অ্যাকাডেমিক স্কোরের তুলনায় মৌখিক বা ইন্টারভিউতে অতিরিক্ত নম্বর রাখার যে চল রয়েছে, তা কমানোর পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।

  • নতুন বিল: আগামী বাজেট অধিবেশনেই বিধানসভায় একটি নতুন স্বচ্ছ নিয়োগ নীতি সংক্রান্ত প্রস্তাব বা বিল পেশ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

পিছিয়ে থাকা প্রকল্প ১০০ শতাংশ করার লক্ষ্য: ন্যাশনাল কোয়ালিটি এসুরেন্স টেন্ডারের ক্ষেত্রেও বাংলা অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে এই কাজ মাত্র ৫৬.৬৮ শতাংশ হয়েছে। বিষয়টিকে সময়সাপেক্ষ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই এই কাজ ১০০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে নতুন সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *