গভীর রাতে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চিন, কম্পন অনুভূত ভারতেও
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: -গভীর রাতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চিন। ২২ মে, শুক্রবার রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে লিউঝোউ প্রদেশের ২৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.২।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মাটি থেকে ১৫০ কিলোমিটার গভীরে। গভীর ফোকাসের কারণে ভূপৃষ্ঠে কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলক কম অনুভূত হয়েছে। লিউঝোউ এবং আশপাশের এলাকায় বাসিন্দারা রাতে আচমকা কম্পন টের পেয়ে আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে রাত পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়া বা স্থানীয় প্রশাসনের তরফে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনও তথ্য মেলেনি।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ১৫০ কিমি গভীরতার ভূমিকম্পকে ‘ইন্টারমিডিয়েট-ডেপথ’ ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়। এ ধরনের ভূমিকম্পে ভূপৃষ্ঠে ঝাঁকুনি কম হলেও বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। চিনের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রবণতা রয়েছে। গত কয়েক বছরে ইউনান ও সিচুয়ান প্রদেশেও একাধিকবার ৫ মাত্রার বেশি কম্পন রেকর্ড হয়েছে।
উল্লেখ্য, একই দিনে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মণিপুরের কামজোং এলাকায় রিখটার স্কেলে ৩.৩ মাত্রার মৃদু কম্পন হয়। সেখানেও ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর নেই। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হিমালয় সংলগ্ন গোটা অঞ্চলই ভূমিকম্পপ্রবণ। তাই ছোট-বড় কম্পন লেগেই থাকে।
চিনের লিউঝোউতে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের পর আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক। প্রশাসন গোটা এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে। আফটারশকের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সিসমোলজিস্টরা। একই দিনে ভারত-চিন সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে জোড়া কম্পনের ঘটনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
