স্কুলের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়তে পারে সিঙ্গুর আন্দোলন ও মোগল ইতিহাস!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বঙ্গে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর এবার কি তবে খোলনলচে বদলে যেতে চলেছে স্কুলের পাঠ্যক্রম? বাংলায় বিপুল জনসমর্থন নিয়ে প্রথমবারের জন্য বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই জল্পনা তীব্র হয়েছিল। এবার সেই জল্পনাতেই সিলমোহর দিলেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, স্কুলের সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়া হোক সিঙ্গুর আন্দোলনের অধ্যায়। শুধু তাই নয়, ইতিহাসের পাতা থেকে মোগল যুগের ‘বিকৃত’ অংশও ছেঁটে ফেলার পক্ষে জোরাল সওয়াল করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে রাজ্যের শিক্ষামহলে এখন সিলেবাস বদলের জোর গুঞ্জন।
২০১১ সালে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের হাত ধরেই বাংলায় ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের আমলেই অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয় সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাস। এমনকি, সিঙ্গুরের জমিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বীজ ছড়ানোর ছবিও স্থান পায় পাঠ্যবইয়ের পাতায়। তবে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, সিঙ্গুর থেকে টাটারা কারখানা না গুটিয়ে চলে যাওয়ায় রাজ্যের শিল্পায়ন কয়েক দশক পিছিয়ে গিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, তৃণমূল আমলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও এখনও পাঠ্যক্রমে রয়ে গিয়েছে। একজন গ্রেপ্তার হওয়া মন্ত্রীর নাম কীভাবে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে থাকে, তা নিয়ে আগেই সরব হয়েছিল ওয়াকিবহাল মহল।
এবারের নির্বাচনে বাংলায় রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি-র শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী, যাঁর হাতে এই মুহূর্তে রয়েছে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরও। নবান্নে নতুন সরকার বসার পর থেকেই একে একে বদলাতে শুরু করেছে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের একাধিক নিয়ম। জারি হচ্ছে নতুন নতুন নির্দেশিকা। সেই আবহেই এবার কোপ পড়তে চলেছে বাম ও তৃণমূল আমলের সিলেবাসে।
বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরপরই ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’ এবং ‘নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি’-র মতো সংগঠনগুলি সিলেবাস থেকে সিঙ্গুর অধ্যায় বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছে। এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “ইতিহাসের বই থেকে সিঙ্গুর আন্দোলন বাদ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি মোগল আমলের যে বিকৃত ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে, তাও বইয়ের পাতা থেকে সরানো দরকার।” দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও এই একই দাবি উঠছে বলে জানান তিনি। সিলেবাস বদলের এই জোরাল সম্ভাবনা নিয়ে মুখ খুলেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাস। তিনি জানান, সরকার যদি পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে কোনো যথাযথ ও আধুনিক সিলেবাস তৈরি করতে চায়, তবে সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নবান্নের সবুজ শিবির এখন গেরুয়া শিবিরে পরিণত হয়েছে। ফলে শিক্ষা দপ্তরের রাশ হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে স্কুলস্তরের সিলেবাসে বড়সড় রদবদল করতে চলেছেন, সজল ঘোষের মন্তব্যে সেই ইঙ্গিতই আরও স্পষ্ট হলো। এখন দেখার, নতুন শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়াদের হাতে কোন নতুন ইতিহাস বই পৌঁছায়।
