আজকের দিনেবিশ্ব

Space Dominance : গোপনে মহাকাশে আধিপত্যের চাল? রহস্যময় গ্রহাণু Kamo‘oalewa-য় নামছে চিনের Tianwen-2 !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- বিবৃতি নেই, প্রচার নেই। তবুও জার্মানি-নেদারল্যান্ডসের রেডিও অবজার্ভারদের নজর এড়াল না চিনের অনন্যকীর্তি। 469219 Kamo‘oalewa গ্রহাণুর বুকে নামতে চলেছে চিনের রোবট। Tianwen-2 মিশনের হাত ধরে মহাকাশে আধিপত্য গড়ার নতুন চাল দিচ্ছে বেজিং।

জানা গেছে, Kamo‘oalewa পৃথিবীর নিকটবর্তী গ্রহাণু। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে বাঁধা না পড়লেও আচরণে উপগ্রহের মতোই। প্রতি ২৮ মিনিটে নিজের অক্ষে পাক খায়। ০.৯০-১.১০ অ্যাস্ট্রনমিক্যাল ইউনিট দূরত্ব থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, একই সঙ্গে পৃথিবীকেও প্রদক্ষিণ করা হয়ে যায়। আগামী কয়েকশো বছর পৃথিবীর কাছেই থাকবে এটি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, লক্ষ লক্ষ বছর আগে উল্কাপাতের অভিঘাতে চাঁদ থেকে ছিটকে আসা খণ্ড এটিই। সেই অভিঘাতেই চাঁদের বুকে তৈরি হয় ২২ কিমি আয়তনের Giordano Bruno গহ্বর। Kamo‘oalewa-র বর্ণালী বিশ্লেষণ করে চাঁদের পাথরের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। তাই নমুনা হাতে এলে চাঁদের জন্ম-ইতিহাস নতুন করে লেখা হতে পারে।

২০২৫ সালের মে মাসে উৎক্ষেপণ হয় Tianwen-2। গত সপ্তাহে ইঞ্জিন-বার্ন শেষ করে Kamo‘oalewa-র সমান্তরাল কক্ষপথে পৌঁছেছে যানটি। আগামী কয়েক সপ্তাহ গ্রহাণুটিকে প্রদক্ষিণ করে হাই-রেজলিউশন ছবি তুলবে, পৃষ্ঠের খনিজ গঠন, তাপমাত্রা ও মাধ্যাকর্ষণ মাপবে। জুলাইয়ে অবতরণের পরিকল্পনা।

নমুনা সংগ্রহে চিন নিচ্ছে ‘Touch and Go, Hover, Anchor and Attach’ — তিন পদ্ধতির সমন্বয়। Touch and Go-তে চাকতির মতো অংশ পৃষ্ঠ ছুঁয়ে গ্যাস-ব্রাশ দিয়ে ধুলো তুলবে। Hover মোডে রোবোটিক আর্ম দিয়ে চেঁচে তোলা হবে মাটি। Anchor and Attach-এ আঙুল-নখের মতো অংশ দিয়ে গ্রহাণুকে আঁকড়ে ধরে নোঙর করবে রোবট। জাপানের Hayabusa2 ও NASA-র OSIRIS-REx শুধু Touch and Go ব্যবহার করেছিল। কিন্তু Kamo‘oalewa-র ঘূর্ণি অনেক বেশি, পৃষ্ঠ অজানা। তাই চিনের প্রযুক্তি আরও জটিল।

২০২৭ সালের নভেম্বরে পৃথিবীর কাছে ফিরে নমুনা-ভর্তি ক্যাপসুল ছাড়বে যানটি। সেকেন্ডে ১২ কিমি গতিতে বায়ুমণ্ডলে ঢুকে প্রচণ্ড তাপ ও ঘর্ষণ সহ্য করে মঙ্গোলিয়ায় নামবে ক্যাপসুল। এর আগে Itokawa, Ryugu, Bennu থেকে নমুনা এনেছে জাপান ও আমেরিকা। তবে Kamo‘oalewa-র গতিবিধি অনেক বেশি বিপজ্জনক। সফল হলে এটিই হবে দ্রুততম ঘূর্ণনরত গ্রহাণু থেকে নমুনা আনার প্রথম ঘটনা।

নমুনা পৌঁছে দিয়েই পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণকে ‘গুলতি’ বানিয়ে ফের ছুটবে Tianwen-2। লক্ষ্য ২০৩৫ সালে 311P ধূমকেতু। এক ঢিলে দুই পাখি মারার এই কৌশলও মহাকাশে চিনের দক্ষতার প্রমাণ।

শুধু বিজ্ঞান নয়, মহাকাশে চিনের আধিপত্য গড়ার বার্তাও দিচ্ছে এই মিশন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে নমুনা আনতে পারলে মঙ্গল থেকেও নমুনা আনার রাস্তা খুলবে বেজিংয়ের সামনে। ৪ জুলাই, আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসেই Kamo‘oalewa-র ২০ কিমি দূরত্বে পৌঁছবে Tianwen-2। নমুনা আনতে না পারলেও কাছ থেকে ছবি তুলতে পারলেই ইতিহাস। আর সফল হলে ২০২৭ সালে গোটা মানবজাতির হাতে আসবে রহস্যময় গ্রহাণুর গোপন তথ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *