আজকের দিনেবিশ্ব

ভোটের ময়দান পেরিয়ে এবার বিশ্বমঞ্চেও ‘ঝালমুড়ি’

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নিউজ ডেস্ক:-  বাংলার অতি সাধারণ এক চটপটা খাবার ‘ঝালমুড়ি’ এবার পৌঁছে গেল বিশ্বমঞ্চে। আর এর নেপথ্যে রয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলার বিধানসভা ভোটের প্রচার পর্বে যে ঝালমুড়ি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল তরজা হয়েছিল, এবার সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে সুদূর নেদারল্যান্ডসের মাটিতেও শোনা গেল সেই ঝালমুড়ির নাম।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ডিজিটাল অগ্রগতি এবং নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলছিলেন। বক্তব্যের মাঝে ভারতের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে যখনই তিনি ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটি উচ্চারণ করেন, অমনি উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে কেউ একজন চিৎকার করে বলে ওঠেন— ‘ঝালমুড়ি!’

জনতার এই কাণ্ড দেখে হেসে ফেলেন প্রধানমন্ত্রীও। রসিকতা করে মঞ্চ থেকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “এখানেও কি ঝালমুড়ি পৌঁছে গেছে?” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই পুরো সভাগৃহ জুড়ে প্রবাসী ভারতীয়দের উল্লাস ও করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

ঝাড়গ্রামের সেই ‘১০ টাকার ঝালমুড়ি’ ও রাজনৈতিক তরজা

আসলে ঝালমুড়ি নিয়ে এই উন্মাদনার সূত্রপাত বাংলার নির্বাচনী প্রচারের সময়। ঝাড়গ্রামে একটি জনসভা সেরে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী হুট করেই তাঁর কনভয় থামিয়ে রাস্তার ধারের এক সাধারণ দোকানে ঢুকে পড়েন। সেখানে দোকানির সঙ্গে গল্প করতে করতে ১০ টাকা দিয়ে ঝালমুড়ি কিনে খান এবং আশেপাশের মানুষজনকেও খাওয়ান।

মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। বিজেপি যেখানে একে মোদীর মাটির কাছাকাছি থাকার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে, সেখানে তৃণমূল ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো একে ‘সাজানো শুটিং সেট’ এবং ‘ভোটের নাটক’ বলে কটাক্ষ করে। তবে ভোট মিটে গেলেও ঝালমুড়ির সেই ঝাঁঝ যে এতটুকু কমেনি, তা হেগের অনুষ্ঠানেই প্রমাণিত হলো।

মহিলাদের রেকর্ড ভোটদানই ভারতের নতুন ট্রেন্ড

এদিনের মঞ্চ থেকে বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “বাংলা, অসম, কেরল, পুদুচেরির মতো রাজ্যগুলোতে মানুষ যেভাবে বুথমুখী হয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বেশ কিছু জায়গায় ভোটদানের হার ৯০ শতাংশও ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় কথা, মহিলারা রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। আর এটাই এখন নতুন ভারতের আসল ট্রেন্ড।”

৫০০ থেকে ২ লক্ষ স্টার্টআপ, অলিম্পিক আয়োজনের বড় স্বপ্ন

নেদারল্যান্ডসের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত করার বার্তা দেন মোদী। সেমিকন্ডাক্টর, জল ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের একযোগে কাজ করার সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আজকের ভারত বড় স্বপ্ন দেখতে ভয় পায় না। অদূর ভবিষ্যতে ভারত অলিম্পিক গেমস আয়োজন করতে চায়।”

পাশাপাশি দেশের যুবসমাজের প্রশংসা করে তিনি জানান, এক দশক আগে যেখানে ভারতে মাত্র ৫০০টি স্টার্টআপ ছিল, আজ মাত্র ১২ বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে ২ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। তবে বিশ্বায়নের এই গুরুগম্ভীর আলোচনার মাঝেও প্রবাসী ভারতীয়দের মন কেড়ে নিল বাংলার সেই চেনা ‘ঝালমুড়ি’র স্বাদ ও গল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *