আজকের দিনেঅন্যান্য

তীব্র গরমে পোষ্যের সুরক্ষায় জরুরি ৪টি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখুন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: গরমের পারদ চড়তেই মানুষের পাশাপাশি নাভিশ্বাস উঠছে অবলা প্রাণীদেরও। গ্রীষ্মের এই মরসুমে পোষ্যদের অস্থিরতা অনেকটাই বেড়ে যায় এবং দেখা দেয় নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, মানুষের মতো পোষা কুকুরেরও কিন্তু হিটস্ট্রোক হতে পারে। সেই সঙ্গে শরীরে দেখা দিতে পারে মারাত্মক জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন। তাই এই কঠিন সময়ে পোষ্যদের সুস্থ রাখতে অভিভাবকদের একটু বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। ঘরের তাপমাত্রা কেমন হওয়া উচিত থেকে শুরু করে ডায়েট— রইল কিছু জরুরি খুঁটিনাটি।

খাবারের পাতে কী রাখবেন আর কী নয়?

গরমের দিনে কুকুরের হজমশক্তি কিছুটা ধীর হয়ে যায়। তাই শুধু মাংস বা ডগ বিস্কুট না খাইয়ে তাদের খাবারে বদল আনা জরুরি।

  • কী খাওয়াবেন:

    • ফল ও সবজি: শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতে শসা এবং তরমুজের মতো জলীয় ফল বেশি করে খাওয়ান।

    • সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট: শরীরে শক্তির জোগান দিতে ভাত, ওটস, আলু, গাজর এবং বিনস নিয়মিত দেওয়া যেতে পারে।

    • দই: সরাসরি দুধ না খাইয়ে এই গরমে তাদের টক দই দেওয়া অনেক বেশি উপকারী।

    • খাবারের পরিমাণ: পোষ্যের মোট ওজনের ২ থেকে ৩ শতাংশ ওজনের খাবার তাকে দেওয়া উচিত। পোষ্যদের জন্য কেনা শুকনো খাবার (Dry Food) এবং বাড়িতে রান্না করা খাবার মিশিয়ে ডায়েট তৈরি করতে পারেন। খাবারটি একবারে না দিয়ে কয়েকটা ছোট ছোট অংশে ভাগ করে দেওয়া ভালো।

  • কী খাওয়াবেন না:

    • আঙুর, কিশমিশ, পেঁয়াজ ও রসুন কুকুরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

    • চকলেট বা যেকোনো ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাবার একেবারেই দেওয়া যাবে না।

    • পাউরুটি, কেক বা যেকোনো ধরনের বেকারি পণ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

খাওয়ার সময়সূচি ও স্নানের নিয়ম

  • দিনে দু’বার খাবার: পোষ্যদের হজমপ্রক্রিয়া ধীর হওয়ায় দিনে দু’বার (সকাল এবং রাত) খাবার খাওয়ার অভ্যাস করানো উচিত। একবার খাওয়ার পর তারা সাধারণত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা অনায়াসে স্বাভাবিক থাকতে পারে।

  • বরফ জলে স্নান: গরমে পোষ্যকে নিয়মিত ভালো করে স্নান করাতে হবে। প্রয়োজনে দিনে একাধিকবার স্নান করানো যেতে পারে। শরীর দ্রুত ঠান্ডা করতে স্নানের জলে কিছু বরফের টুকরো মিশিয়ে দিতে পারেন।

ঘরের তাপমাত্রা কত হওয়া উচিত?

গ্রীষ্মকালে পোষ্যরা খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাদের খিদে কমে যায় এবং ঝিমুনি বাড়ে। তাই পোষ্য যে ঘরে থাকবে, সেটি যেন যথেষ্ট ঠান্ডা ও হাওয়া-বাতাসপূর্ণ হয়। ঘরের তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা পোষ্যের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে আদর্শ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *