আজকের দিনেবাংলার আয়না

সামার ক্যাম্পে ট্র্যাজেডি: স্কুলের সুইমিং পুলে মৃত্যু ছাত্রের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আসানসোল: গরমের ছুটির আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল চরম বিষাদে। একটি নামী বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সুইমিং পুলে সাঁতার শিখতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রের। বৃহস্পতিবার আসানসোল দক্ষিণ থানা এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত ছাত্রের নাম অদ্রিক হিলারিয়ান। সে আসানসোল দক্ষিণ থানার লোয়ার চেলিডাঙা এলাকার বাসিন্দা ছিল। এই ঘটনার পর স্কুলের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

গরমের ছুটির ‘সামার ক্যাম্প’-এ দুর্ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহু পুরনো ওই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলটিতে গত ২১শে মে থেকে গরমের ছুটিতে সাঁতারের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির বা ‘সামার ক্যাম্প’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে বেলা পর্যন্ত বিভিন্ন শিফটে বাচ্চাদের সাঁতার শেখানো হচ্ছিল।

অন্যান্য দিনের মতোই বৃহস্পতিবার সকালেও অদ্রিক স্কুলে সাঁতারের প্রশিক্ষণে গিয়েছিল। কিন্তু প্রশিক্ষণের মাঝেই কোনোভাবে সে পুলে ডুবে যায়। বাচ্চাদের চিৎকার শুনে নাকি অন্য কোনোভাবে বিষয়টি নজরে আসে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অদ্রিককে জল থেকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তদন্তে পুলিশ, গাফিলতির অভিযোগে সরব অভিভাবকেরা

খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে। স্কুল চত্বরে ও সুইমিং পুলের আশেপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রশিক্ষক বা স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতির কারণে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, এই ঘটনার পর অন্য ছাত্র ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, ঠিক কী কারণে এবং কার উদাসীনতায় একটি শিশুর প্রাণ গেল, তা প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রবি ভিক্টর। তিনি কেবল বলেন, “এটি অত্যন্ত শোকের একটি মুহূর্ত। স্কুলে সামার ক্যাম্প চলছিল, তার মধ্যেই এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি ঘটে গেল। আমি এই কঠিন সময়ে ওই ছাত্রের পরিবারের পাশে আছি। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *