ডিজিটাল খাতা দেখা নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক: দায় স্বীকার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিতর্ক থিতু হওয়ার আগেই এবার কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বা CBSE-র দ্বাদশ শ্রেণির মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বছর প্রথমবারের মতো চালু হওয়া অন-স্ক্রিন মার্কিং বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে খাতা দেখার ক্ষেত্রে একাধিক গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ তুলেছেন পড়ুয়া ও অভিভাবকেরা। এই পরিস্থিতির জেরে বৃহস্পতিবার দিল্লির এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান স্পষ্ট জানান, “আমি এর দায় নিচ্ছি। প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করা হবে এবং আমরা সবাই সেই কাজেই ব্যস্ত রয়েছি।”
ওএসএম পদ্ধতি ও পড়ুয়াদের অভিযোগ
সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির খাতা মূল্যায়নের জন্য এবারই প্রথম এই ডিজিটাল অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু ফল প্রকাশের পর থেকেই দেশজুড়ে ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। পরীক্ষার্থীদের মূল অভিযোগগুলি হলো:
-
স্ক্যান করা উত্তরপত্র অত্যন্ত ঝাপসা ছিল।
-
খাতার কিছু কিছু অংশের উত্তর মূল্যায়নই করা হয়নি।
-
নম্বর গণনায় বড়সড় ভুল থেকে গেছে।
-
রিভ্যালুয়েশন বা পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সময় বোর্ডের সার্ভার ডাউন এবং পেমেন্ট গেটওয়েতে বিভ্রাট দেখা দেয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই নতুন পদ্ধতিতে প্রায় ১৭ লক্ষ পড়ুয়ার ৯৮ লক্ষ উত্তরপত্র, অর্থাৎ প্রায় ৪০ কোটি স্ক্যান করা পৃষ্ঠা ডিজিটালভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে প্রতিটি উত্তরপত্র সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এই ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করে তিনি বলেন, “এটি একটি ছাত্রবান্ধব ও আধুনিক উদ্যোগ, যা বিশ্বের বহু নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা নিজেদের উত্তরপত্র দেখতে পারে। তবে কিছু ত্রুটি যেহেতু সামনে এসেছে, তাই কোনো ছাত্রের প্রশ্নের উত্তরই মূল্যায়ন ছাড়া বাকি থাকবে না।”
আইআইটি বিশেষজ্ঞদের নজরদারি ও পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজ করার উদ্যোগ
প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত এই জটিলতা দূর করতে দেশের প্রথম সারির দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, আইআইটি কানপুর এবং আইআইটি মাদ্রাজ -এর বিশেষজ্ঞ দলকে এই ত্রুটিগুলি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, রিভ্যালুয়েশনের ফি জমা দেওয়ার জটিলতা কাটাতে অর্থমন্ত্রীর কাছে পেমেন্ট প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে সিবিএসই পোর্টালকে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা এবং ক্যানারা ব্যাঙ্কের পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যদি কোনো ইচ্ছাকৃত অনিয়ম বা গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে দায়ীদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”
তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা: রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ শিক্ষামন্ত্রীর
এই মূল্যায়ন বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আসরে নেমেছে বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেসের তরফে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। গত বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সিবিএসই-র ওএসএম পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ‘কোএম্পট এডুটেক’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থাকে খাতা স্ক্যান ও মূল্যায়নের চুক্তি দেওয়া নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।
এর জবাবে পাল্টা সিবিএসই স্পষ্ট জানিয়েছে যে, রাহুল গান্ধীর অভিযোগ সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও তথ্যহীন। সমস্ত প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় সরকারের সাধারণ আর্থিক বিধি (জেনারেল ফিনান্সিয়াল রুলস) মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এর আরএফপি ২০২৫ সালের ২৮শে আগস্ট কেন্দ্রীয় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট পোর্টালে প্রকাশ করে যোগ্য সংস্থাকেই নিয়ম মেনে চুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “রাহুল গান্ধী এখন এমন এক মানসিক অবস্থায় রয়েছেন যেখানে একের পর এক নির্বাচনী পরাজয়ের হতাশা থেকে তিনি সরকারের প্রতিটি সংস্কারমূলক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। ইভিএম হোক বা ডিজিটাল ইন্ডিয়া— দেশের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন না। এটা নিয়ে দয়া করে রাজনীতি করবেন না। পরীক্ষার্থীরা এমনিতেই মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে, এই সমালোচনা করে তাদের উদ্বেগ আর বাড়াবেন না।”
