আজকের দিনেতিলোত্তমা

মুচিপাড়ায় আক্রান্ত বিজেপি কর্মী, সজলের নিশানায় তৃণমূল

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- বুধবার রাতে মুচিপাড়ায় বিজেপি কর্মীকে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত থেকেই উত্তপ্ত গোটা এলাকা। আক্রান্ত যুবকের নাম বিপ্লব নাগ। মাথা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় বর্তমানে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মুচিপাড়ার এপিসি রোডের একটি চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন বিজেপি কর্মী বিপ্লব নাগ। অভিযোগ, সেই সময় ৬-৭ জন যুবক বাইকে করে এসে প্রথমে তাকে ঘিরে ধরে। শুরু হয় বাদানুবাদ। কথা কাটাকাটি চলার মধ্যেই আচমকা এক যুবক লোহার রড দিয়ে বিপ্লবের মাথায় সজোরে আঘাত করে। পরপর কয়েকবার মাথায় ও পিঠে রডের বাড়ি মারা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে অভিযুক্তরা বাইক নিয়ে চম্পট দেয়। সঙ্গে সঙ্গে বিপ্লবকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটবর্তী একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় গভীর ক্ষত হয়েছে। ৬টি সেলাই পড়েছে। আপাতত তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, বিপ্লব এলাকায় সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত। গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোটে দলের হয়ে বুথের দায়িত্ব সামলেছেন। সেই থেকেই তাকে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বিপ্লবের দাদা সুব্রত নাগ বলেন, “ভাইকে গত এক মাস ধরে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল বিজেপি করলে ফল ভুগতে হবে। আমরা থানায় জানিয়েওছিলাম। কিন্তু পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি। আজ তার পরিণতি দেখলাম।”

ঘটনার খবর পেয়েই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। পরে হাসপাতালে গিয়ে আক্রান্ত কর্মীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সজল ঘোষের দাবি, “আগামী সপ্তাহে মুচিপাড়ায় বিজেপির একটি বড় সংবর্ধনা সভা হওয়ার কথা। সেই সভা বানচাল করতেই পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে। কলকাতার বুকে বিরোধীদের উপর এভাবে হামলা গণতন্ত্রের লজ্জা। পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে। নাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।”

যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে পাল্টা দাবি করেন, “এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিবাদ। উল্টে আমাদের বুথ এজেন্ট দ্বিপন সাহাকেও মারধর করেছে বিজেপির লোকজন। তার মাথাও ফেটেছে। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। বিজেপি রাজনৈতিক রং লাগিয়ে এলাকা অশান্ত করতে চাইছে। আমরা শান্তি চাই।”

এই ঘটনায় মুচিপাড়া থানায় দুপক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। রাত থেকেই এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চলছে রুটমার্চ। কলকাতা পুলিশের ডিসি সেন্ট্রাল জানিয়েছেন, “গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।”

খাস কলকাতার বুকে রাজনৈতিক কর্মীর উপর এই হামলার ঘটনায় নতুন করে রাজ্য-রাজনীতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা। অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় চাপা উত্তেজনা থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *