Engineer Rahul Sharma Tragedy: ওয়েনাড়ে ধ্বংসস্তূপের পাশে টানা ৪৮ ঘণ্টা বসে স্ত্রী, উদ্ধার স্বামীর নিথর দেহ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- বাড়ি নিয়ে আর ফেরা হল না। স্বামীকে উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন, সেই আশায় ৪৮ ঘণ্টা একনাগাড়ে ধবংসস্তূপের পাশে বসে স্ত্রী। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। টানা তিনদিন ধরে একনাগাড়ে চলছে উদ্ধার কাজ। বৃষ্টি সেই উদ্ধারকাজে বাধা দিচ্ছে। এই প্রবল বৃষ্টিতে ওয়ানাড়ে ধস নামে। সেই সময় আনাককোম্পয়িল-মেপ্পাদি টানেল প্রকল্প কাজ চলছিল। সেখানেই ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার রাহুল শর্মা। হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে ধস। চাপা পড়ে যান রাহুল। ৭ জুলাইয়ের ঘটনা।
আনাককোম্পয়িল-মেপ্পাদি টানেল প্রকল্প ওয়েনাড় ও কোঝিকর জেলাকে সংযুক্ত করছে। তার পর থেকে রাহুলের আর কোনও খোঁজ নেই। টানা চলছে উদ্ধার কাজ। সেই সময় থেকেই একনাগাড়ে স্বামী রাহুলের অপেক্ষায় বসে কল্পনা। এই বছরের প্রথম দিকেই বিয়ে তাঁদের। সদ্য নতুন জীবনে পা রেখেছিলেন তারা। যা শেষ হয়ে গেল এক লহমায়। ঘটনার পর তাঁর বাবা রূপ দেব শর্মা ও মামা রামবীর শর্মা ওয়ায়ানাদে পৌঁছান, তবে উদ্ধারকাজ চলাকালীন তাঁর স্ত্রী ঘটনাস্থলেই বসে ছিলেন।
রামবীর শর্মা নিশ্চিত করেছেন যে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং একটি পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাহুলের স্ত্রী, বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শুক্রবার মৃতদেহ নিয়ে হিমাচল প্রদেশে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে, এরপর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
রাহুলের ছোট ভাইও পরিবারকে পাশে পেতে দুবাই থেকে ফিরে আসছেন। ছেলেকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ মা। , রাহুল রেওয়ালসারের মান্ডি জেলার বাসিন্দা। রাহুলকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত মৃত তিন। নিহত অন্য তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে—তাঁরা হলেন মধ্যপ্রদেশের হিটাচি অপারেটর চন্দ্রভান পাল (৩৭), বিহারের ফোরম্যান বিকাশ কুমার সিং (৪০) এবং ঝাড়খণ্ডের আনমোল দোদরাই (২৫)। আরও তিনজনের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার মেপ্পাদির কাল্লাদি টানেল নির্মাণস্থলে পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ ধসে পড়লে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ওই ধসের ফলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শ্রমিকরা মাটির নিচে চাপা পড়েন।
