ভোটকর্মীদের পাতে কী কী? লাল চা থেকে চিকেন কারি—মেনু ও দাম বেঁধে দিল কমিশন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,পুরুলিয়া ও হুগলি: ভোট করানো শুধু কঠিন কাজই নয়, রীতিমতো পরিশ্রমের। আর সেই পরিশ্রমে যাতে ভাটা না পড়ে, তার জন্য ভোটকর্মীদের রসনা তৃপ্তির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করল নির্বাচন কমিশন। তবে এবার খাবারের মেনু থেকে শুরু করে তার দাম—সবই থাকছে কমিশনের কড়া নিয়ন্ত্রণে। বুথে বুথে আতিথেয়তা ও রান্নার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতের ছোঁয়া
প্রতিবারের মতো এবারও ভোটকর্মীদের খাবারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যারা। তাঁদের নিপুণ হাতে তৈরি লাল চা, মুড়ি-ঘুগনি থেকে শুরু করে রুই মাছ বা চিকেন কারি—সবই মিলবে বুথ চত্বরে। তবে জেলা প্রশাসন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কমিশন নির্ধারিত মূল্যের বেশি টাকা নেওয়া যাবে না।
কী থাকছে পাতে? (পুরুলিয়া জেলা গ্রামোন্নয়ন সংস্থার তালিকা অনুযায়ী)
পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা নজরকাড়া। দেখে নেওয়া যাক সেই তালিকার কিছু ঝলক:
-
পানীয় ও টিফিন: ৬০ এম.এল. লাল চা ৬ টাকা, দুধ চা ৭ টাকা। জলখাবারে মুড়ি-ঘুগনি ৩০ টাকা।
-
দুপুরের আহার: ভাত, ডাল, আলু ভাজা, সবজি, চাটনি ও পাঁপড় মিলবে মাত্র ৬০ টাকায়। পরে অতিরিক্ত ভাত নিলে দিতে হবে আরও ১০ টাকা।
-
আমিষের স্বাদ: সাধারণ খাবারের সঙ্গে ১ পিস রুই মাছ নিলে দাম হবে ৯০ টাকা। ১ পিস ডিম কারি নিলে ৭০ টাকা এবং ৩ পিস চিকেন যুক্ত হলে খাবারের দাম হবে ১০০ টাকা।
-
রাতের খাবার: একটি রুটি ৫ টাকা, হাফ প্লেট সবজি ১৫ টাকা। রুটির সঙ্গে চিকেন মিলবে ২০ টাকায়। এছাড়া মিলবে ডিম তড়কা (৩৫ টাকা), ভেজ তড়কা (২৫ টাকা) এবং বাঙালির প্রিয় আলু পোস্ত (২৫ টাকা)।
-
মিষ্টি ও অন্যান্য: রসগোল্লা বা মিষ্টির পিস ১০ টাকা। হালকা খাবারের জন্য ৩ পিস ইডলি বা ১ পিস দই বড়ার দাম রাখা হয়েছে ২৫ টাকা।
জেলাভেদে সাম্মানিকের ফারাক
খাবারের দামের পাশাপাশি ভোটকর্মীদের সাম্মানিক বা রেমুনারেশনের ক্ষেত্রেও জেলাভেদে কিছুটা পার্থক্য দেখা গিয়েছে।
পদের নাম পুরুলিয়া (টাকা) হুগলি (টাকা)
প্রিসাইডিং অফিসার ৩০২০ ৩৫৩০
ফার্স্ট পোলিং অফিসার ২১৭০ ২৬৮০
সেকেন্ড ও থার্ড পোলিং অফিসার ১৭৭০ ২১১০
কেন্দ্রীয় বাহিনীর খাবার
বুথে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের জন্যও এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি থেকে খাবার কেনার সুযোগ থাকছে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী, বাহিনীর নিজস্ব কোম্পানির রাঁধুনিরাই সাধারণত তাঁদের খাবার তৈরি করেন।
রাত পোহালেই প্রথম দফার ভোট। একদিকে কড়া রোদে গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব, অন্যদিকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মা-বোনেদের হাতের তৃপ্তিদায়ক আহার—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই আগামিকালের নির্বাচনী প্রস্তুতি তুঙ্গে।
