আজকের দিনেতিলোত্তমা

ভোট-চলাকালীন এলাকা ছাড়া নিষিদ্ধ! এবার প্রার্থীদের গতিবিধিতেও কড়া রাশ কমিশনের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বেনজির কড়াকড়ি জারি রাখল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোট চলাকালীন প্রার্থীদের গতিবিধিতে এবার বড়সড় রাশ টানা হলো। কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোট গ্রহণ চলাকালীন কোনো প্রার্থীই নিজের বিধানসভা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। আগামিকাল, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

কড়া নজরদারি ও বিধিনিষেধ

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:

  • ভোটের দিন কোনো প্রার্থী নিজের এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে পারবেন না।

  • নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা গন্ডগোলের সঙ্গে জড়িত হওয়া যাবে না।

  • নিজেদের এলাকায় থেকেই প্রার্থীদের পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখতে হবে।

ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, মদের দোকান বন্ধ রাখা এবং বাইক চলাচলের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে কমিশন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো প্রার্থীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের এই নির্দেশ।

মদের দোকান বন্ধ নিয়ে ঘনীভূত রহস্য

এদিকে, ভোটমুখী জেলাগুলোর পাশাপাশি কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে কেন মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে, তা নিয়ে খোদ কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।

সাধারণত নিয়ম হলো, যে এলাকায় ভোট (প্রথম দফায় ১৫২টি আসন), সেখানে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু এবার গোটা রাজ্যজুড়েই এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মনোজ আগরওয়াল বলেন:

“আমিও এটা শুনে অবাক হচ্ছি। আমি এক্সাইজ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করব কেন তিনি এই নির্দেশ জারি করেছেন। যেখানে ভোট নেই, সেখানেও কেন দোকান বন্ধ রাখা হলো তা আমার জানা নেই।”

যদিও আবগারি কমিশনারের কাছে বিশেষ ক্ষমতা থাকে জনস্বার্থে বা আইন-শৃঙ্খলার খাতিরে যেকোনো এলাকায় এই নির্দেশ জারি করার, তবুও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের এই মন্তব্য ঘিরে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নজিরবিহীন ‘ছাব্বিশের লড়াই’

২০২৬-এর এই নির্বাচনে কমিশন একের পর এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। প্রশাসনিক রদবদল থেকে শুরু করে পর্যটন কেন্দ্র খালি করা কিংবা রাত ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা—শান্তিপূর্ণ ভোট করাই এখন কমিশনের কাছে অ্যাসিড টেস্ট। আগামিকাল প্রথম দফার পরীক্ষায় প্রার্থীদের এই নতুন ‘এলাকা-বন্দি’ নিয়ম কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *