নীল সমুদ্র আর গোলাপী বালির দেশ: ঘুরে আসুন বিশ্বের অন্যতম সুন্দর দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলস, রইল সম্পূর্ণ গাইডলাইন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নিউজ ডেস্ক: নীল সমুদ্রের ঢেউ, ধবধবে সাদা বালির সৈকত, বিশাল গ্রানাইট পাথর আর চারপাশের সবুজের মেলা— সব মিলিয়ে যেন ক্যানভাসে আঁকা কোনো ছবি! সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের পর থেকেই পর্যটকদের মাঝে নতুন করে চর্চায় এসেছে ভারত মহাসাগরের অপরূপ দ্বীপরাষ্ট্র ‘সেশেলস’ । বর্ষার মরসুমে এখানে পর্যটকদের ভিড় তুলনামূলক কম থাকায়, যাঁরা একটু নিরিবিলি ও শান্ত পরিবেশে ছুটি কাটাতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।
১০০-রও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দেশের মূল আকর্ষণ মূলত তিনটি দ্বীপ— মাহে, প্রসলিন ও লা ডিগ। সেশেলসের রাজধানী ভিক্টোরিয়া এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি মাহে দ্বীপেই অবস্থিত।
সেশেলস-এর ৭টি অনন্য বৈশিষ্ট্য, যা একে অন্য সব সৈকত থেকে আলাদা করে:
১. লা ডিগের বিশ্ববিখ্যাত গোলাপী বালির সৈকত: লা ডিগ দ্বীপের ‘আনস সোর্স ডি’আর্জেন্ট’ সৈকতটি তার অনন্য গোলাপী বালির জন্য বিখ্যাত। চারপাশের গ্রানাইট পাথর আর নীল জলরাশির মেলবন্ধনে তৈরি এই সৈকতটি বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক ছবি তোলা সমুদ্রসৈকত।
২. দুটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট: মানুষের স্পর্শ থেকে দূরে থাকা ‘আলডাব্রা’ হলো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবাল অ্যাটল, যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম দৈত্যাকার কচ্ছপদের বসবাস (পরিদর্শনের জন্য পূর্বানুমতি প্রয়োজন)। অন্যদিকে, প্রসলিন দ্বীপের রহস্যময় ‘ভালে দ্য মাই নেচার রিজ়ার্ভ’-এ দেখা মেলে বিশ্বের বৃহত্তম বিরল ‘কোকো দে মের’ পাম গাছের, যার নারকেলের ওজন ২০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে!
৩. বিরল কালো তোতাপাখি: সেশেলসের জাতীয় পাখি হিসেবে পরিচিত এই অত্যন্ত বিরল কালো টিয়া পাখি পুরো বিশ্বের মধ্যে কেবল প্রসলিন ন্যাশনাল পার্কের ভ্যালি দে মাই অঞ্চলেই দেখতে পাওয়া যায়।
৪. সেরা স্কুবা ডাইভিং ও ওয়াটার স্পোর্টস: প্রবাল প্রাচীর, ডুবে যাওয়া জাহাজ ও সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীবনের কারণে এটি ডাইভারদের স্বর্গরাজ্য। ব্রিসারে রকস, শার্ক ব্যাংক-এর মতো ডাইভিং সাইটগুলোতে স্কুবা ডাইভিং, স্নরকেলিং ও কায়াকিংয়ের দারুণ সুযোগ রয়েছে।
৫. বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রাজধানী শহর: মাহে দ্বীপে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্রতম রাজধানী। এই দ্বীপে ৭০টিরও বেশি সুন্দর সৈকত, সেরা রেস্তোরাঁ এবং চমৎকার ‘মোর্ন সেশেলোইস ন্যাশনাল পার্ক’ রয়েছে।
৬. তাকামাকা বে ডিস্টিলারি ট্যুর: ২৫০ বছরের পুরোনো এস্টেটে অবস্থিত এই ডিস্টিলারিতে গিয়ে পর্যটকরা সরাসরি রাম (Rum) তৈরির গাঁজন ও পাতন প্রক্রিয়া দেখার পাশাপাশি স্থানীয় ৫ ধরনের রাম চেখে দেখার সুযোগ পান।
৭. বিশ্বের ষষ্ঠ সেরা সৈকত: প্রসলিনে অবস্থিত ‘আনসে লাজিও’ সৈকতটি ট্রিপঅ্যাডভাইজারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিশ্বের ষষ্ঠ সেরা সৈকত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানে স্নরকেলিং করার সময় ভাগ্য ভালো থাকলে সামুদ্রিক কচ্ছপদেরও দেখা মিলতে পারে।
ভ্রমণ পরিকল্পনা ও আনুমানিক খরচ:
-
কখন যাবেন: সেশেলসে সারা বছরই উষ্ণ ও ক্রান্তীয় জলবায়ু থাকে (তাপমাত্রা ২৪° থেকে ৩২° সেলসিয়াস), তাই বছরের যেকোনো সময়ই এখানে যাওয়া যায়।
-
কলকাতা থেকে যাতায়াত: কলকাতা থেকে সেশেলসের সরাসরি বিমান নেই। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু অথবা দুবাই, দোহা হয়ে কানেক্টিং ফ্লাইটে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টার মধ্যে মাহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানো যায়। ভারতীয়দের জন্য এখানে প্রবেশের নিয়ম বেশ সহজ।
-
ভ্রমণ খরচ: কলকাতা থেকে ৫ রাত ও ৬ দিনের একটি সেশেলস ট্যুরের জন্য জনপ্রতি আনুমানিক ১.২ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে (রিসর্টের মান অনুযায়ী খরচ বাড়তে বা কমতে পারে)।
পর্যটকদের জন্য কিছু জরুরি টিপস:
-
মুদ্রা ও ভাষা: এখানকার স্থানীয় মুদ্রা হলো সেশেলস রুপি (১ SCR = প্রায় ৫ INR)। তবে ইউরোপীয় পর্যটকদের আধিক্যের কারণে অনেক জায়গায় ইউরোতেও দাম লেখা থাকে। এখানে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষা ব্যাপকভাবে প্রচলিত।
-
নিরাপত্তা ও যোগাযোগ: এটি ভ্রমণের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ ও বন্ধুত্বপূর্ণ একটি দেশ। বিমানবন্দরে বা স্থানীয় দোকানে এয়ারটেল সিম কার্ড সহজেই পাওয়া যায়।
-
খাবার ও যাতায়াত: ভারতীয় পর্যটকদের জন্য সেশেলসে ৩টি খাঁটি ভারতীয় রেস্তোরাঁ রয়েছে। দ্বীপের ভেতরে যাতায়াতের জন্য ফেরি, বাস বা ট্যাক্সি পাওয়া যায়। মাহে ও প্রসলিনে গাড়ি ভাড়া করা ভালো, তবে ছোট দ্বীপ লা ডিগ ঘুরে দেখার জন্য সাইকেল ভাড়া করাই সবচেয়ে সেরা উপায়।
