সোমবারের মধ্যেই লিখিত জবাব: ‘আসল তৃণমূল’ বিতর্কে মমতা-ঋতব্রত শিবিরকে নথি-সহ তলব কমিশনের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি:- দলের নাম, প্রতীক ও তহবিলের দখল নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপোড়েন এবার পৌঁছল নির্বাচন কমিশনের দরজায়। ‘আসল তৃণমূল’ কে, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়— দুই পক্ষকেই আগামী সোমবার, ৬ জুলাই বিকেলের মধ্যে লিখিত বক্তব্য ও সমস্ত প্রামাণ্য নথি জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিল কমিশন।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ার পর থেকেই কার্যত দু’টুকরো হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভাঙনের শুরুটা হয়েছিল বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। কালীঘাট শিবির থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হলেও, দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সই নিয়ে বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘সই-বিতর্ক’ নামে পরিচিত সেই ঘটনাই দুই শিবিরের মধ্যে প্রকাশ্য লড়াইয়ের সূচনা করে। এরপর যত দিন গিয়েছে, ফাটল ততই চওড়া হয়েছে।
বিরোধ এখন পৌঁছেছে দলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। দুই শিবিরই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে আলাদা জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেছে এবং সেই তালিকা জমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে দলের ‘চেয়ারম্যান’ উল্লেখ করে যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে তাঁর অনুগামীরাই রয়েছেন। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির পাল্টা বৈঠক করে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূলের’ চেয়ারম্যান পদে বসিয়েছে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে। লক্ষণীয় বিষয়, ঋতব্রতদের জমা দেওয়া তালিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়— কারও নামই নেই।
শুধু তালিকা জমা দিয়েই থেমে থাকেনি ঋতব্রত শিবির। ৯ জন বিধায়ক ও এক প্রাক্তন মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকও সেরে এসেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দিল্লিতে দাঁড়িয়েই তিনি জোর গলায় দাবি করেন, ‘আমরাই আসল তৃণমূল’। দলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ ও দলীয় তহবিলের অধিকারও তাঁদেরই বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক, সাংগঠনিক শক্তি— সব দিক থেকেই তাঁদের পাল্লা ভারী।
এই আবহেই বৃহস্পতিবার নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। দুই শিবিরকেই চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, সোমবার বিকেলের মধ্যে লিখিত আকারে নিজেদের বক্তব্য ও দাবির সপক্ষে যাবতীয় নথি জমা দিতে হবে। কমিশন সূত্রে খবর, দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটাতেই এই পদক্ষেপ। বিধানসভায় একবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘কেউ বলছেন আমি তৃণমূল, আরেকজন বলে ওরা ল্যাম্পপোস্ট’। সেই কটাক্ষই এখন কমিশনের টেবিলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, সোমবারের মধ্যে জমা পড়া লিখিত জবাব ও নথিপত্র খতিয়ে দেখেই তৃণমূলের নাম-প্রতীকের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দলের রাশ কার হাতে থাকবে, জোড়াফুল প্রতীক কারা ব্যবহার করবে— সবটাই নির্ভর করছে কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর। তাই সোমবার বিকেলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য রাজনৈতিক মহল।
