আজকের দিনেবিশ্বরাজনীতি

America-Iran : ভেস্তে গেল দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক , নেপথ্যের কারণ কী ?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- আমেরিকার চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানকে শেষ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । তিনি সরাসরি বলেছিলেন, ‘একটা ব্রিজ কিংবা বিদ্যুৎ কেন্দ্র আস্ত রাখব না।’ কিন্তু সেই হুমকির সামনে মাথা ঝোঁকাল না খামেনেইয়ের দেশ । আমেরিকার সঙ্গে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার বৈঠকে তারা অংশই নেবে না বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল তেহরান । গতকাল ১৯ শে এপ্রিল রবিবার ইরান সরকারের তরফে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত এবং অবাস্তব দাবি, বারবার অবস্থান বদল এবং অবরোধের কারণেই তারা আলোচনায় বসতে রাজি নয়।

পাকিস্তান ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার প্রথম দফার শান্তি বৈঠক ভেস্তে গিয়েছিল। তারপর থেকে ইরানের সমস্ত বন্দরের অবরোধ শুরু করে মার্কিন সেনা । কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী । একদিকে ইরানের বন্দর গুলিতে আমেরিকা সামরিক শক্তির প্রদর্শন করছিল আবার ওপর দিতে শান্তি আলোচনায় বসার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে । ঠিক এই জায়গাতেই আপত্তি ইরানের । মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য কে শিশুসুলভ বলে কটাক্ষ করেন ইরানের উপরাষ্ট্রপতি মোঃ রেজা আরিফ এর পরে তিনি আলোচনায় ইতি টানার ঘোষণা করেন । ইরানের দেওয়া বিবৃতি যা বলা হয়েছে, তাদের সমস্ত বন্দর গুলিতে অবরোধ শুরু করে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে আমেরিকা । ধারাবাহিক নববরোধ বারবার অবস্থান বদল এবং পরস্পর বিরোধী বক্তব্যের কারণে আলোচনা পরিবেশ নষ্ট হয়েছে । এই পরিবেশে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসা অর্থহীন । আপাতত আমেরিকা সঙ্গে ইরানের কোন বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নেই । সূত্রের খবর দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য একপ্রকার রাজী হয়ে গেছিল ইরান কিন্তু ট্রাম্পের লাগাতার হুমকির কারণে শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠক বাতিল হয় । মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে তিনটি দাবি প্রথমত মজুদ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করা, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ না ছাড়া, হিজবুল্লার মত আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীকে সাহায্য না করা এইগুলি মানতে রাজি হয়নি ইরান । যার কারনে শান্তি বৈঠক এই দুই দেশের মধ্যে হয়ে উঠছে না ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তিনটি অবস্থান নিয়ে অনড় ওদিকে ইরান ও মাথা ঝোকাতে রাজি নয় । এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোচ্ছে নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *