আজকের দিনেতিলোত্তমা

মাছ-ভাতেই বাজিমাত! নবান্নের পর বিধানসভাতেও বিজেপির ‘মাস্টারস্ট্রোক’

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র আবেগ চিরকালই এক বড় ইস্যু। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল বারবার সরব হয়েছিল এই আশঙ্কা নিয়ে যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির পাতে মাছ-মাংস নিষিদ্ধ হবে। খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা থেকে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, “বিজেপি এলে মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে।” এমনকি মাছ হাতে তৃণমূল প্রার্থীদের মিছিলও দেখেছিল রাজ্যবাসী। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই বুঝিয়ে দিচ্ছে, বাঙালির সংস্কৃতি আর খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং বাঙালির প্রিয় ‘মাছ-ভাত’কে হাতিয়ার করেই এখন জনসংযোগ মজবুত করছে নতুন শাসকদল। নবান্নের পর এবার বিধানসভাতেও দেখা গেল সেই পরিচিত ‘ম ম’ করা মাছের ঘ্রাণ।

শপথের দিনেও মেনুতে ‘মাছ-ভাত’
আজ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ ১৫২ জন বিধায়ক শপথ গ্রহণ করেন। নবনির্বাচিত বিধায়কদের তালিকায় যেমন রয়েছেন বিজেপির একঝাঁক সদস্য, তেমনই শপথ নিয়েছেন নিয়ামত শেখের মতো তৃণমূলের হাতেগোনা কয়েকজন বিধায়ক এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শপথগ্রহণ পর্ব মিটতেই প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় যখন দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের কথা ঘোষণা করেন, তখন রীতিমতো খুশির হাওয়া বিধানসভা কক্ষে। তাপস বাবু ঘোষণা করেন: “আজ সব সদস্যের জন্য লাঞ্চের ব্যবস্থা আছে মাছ ভাত।” এই ঘোষণার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ শাসকদলের বিধায়কদের মুখে চওড়া হাসি দেখা যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি সম্পর্কে যে ‘নিরামিষাশী’ ভাবমূর্তি বিরোধীরা প্রচার করেছিল, তা সুকৌশলে ভেঙে দিতেই এই উদ্যোগ।

ফিশফ্রাই থেকে মাছের ঝোল: বিজেপির স্ট্র্যাটেজি?
উল্লেখ্য, বিধানসভার এই মাছ-ভাত বিলাস প্রথম নয়। গত সোমবার নবান্নে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকেও বিকেলের জলখাবারের মেনুতে ছিল মুচমুচে ‘ফিশফ্রাই’। কেন এই মাছ-ভাতের রাজনীতির গুরুত্ব?

ভয় কাটানো: প্রচারে তৃণমূল যে ‘খাদ্যাভ্যাসে নিষেধাজ্ঞার’ ভয় দেখিয়েছিল, তা সরাসরি খারিজ করা।

সাংস্কৃতিক সংযোগ: বাঙালি হিসেবে নিজেদের পরিচয় আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা।

বিপক্ষকে বার্তা: তৃণমূলের অভিযোগ যে অন্তঃসারশূন্য ছিল, তা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করা।

সব মিলিয়ে, ক্ষমতার অলিন্দে এখন শুধুই মাছের ঝোলের সুবাস। বিরোধীদের সব প্রচার সামাল দিয়ে বিজেপি প্রমাণ করতে চাইছে, তারা শুধু শাসন নয়, বাঙালির আবেগকেও সমান গুরুত্ব দিতে জানে। বিধানসভার আজকের মেনু অন্তত সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *