আজকের দিনেবিশ্ব

Crude Oil: ইরানে হামলা আমেরিকার, নতুন করে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা– যুদ্ধবিরতি শেষ। ফের ইরানে আগ্রাসী হামলা শুরু করেছে আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দেখে নেবে বলে হুঙ্কার দিয়েছে ইরান। বুধবার রাত থেকেই ফের ইরানে হামলা শুরু করে আমেরিকা। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে তেহরান, বন্দর, আব্বাস সহ ইরানের একের পর এক শহর। এই পরিস্থিতিতে ফের সঙ্কট বাড়তে চলেছে জ্বালানির। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে এই যুদ্ধের আবহ তৈরি হতেই ফের হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিতে তেলের দাম। দুদিন আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭৭-৭৮ ডলার। সেটা গত দু’দিনে বেড়ে ৮০ ডলার পেরিয়েছে। দু’দিনে প্রায় ৬ শতাংশ দাম বেড়েছে অশোধিত তেলের। যুদ্ধ চলাকালীন অশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। সে তুলনায় গত কয়েক সপ্তাহে কিছুটা দাম কমেছিল। সেটা মূলত ইরান-আমেরিকা সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পরে ফের নতুন করে আশঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে।

এখন নতুন করে অশোধিত তেলের দাম বাড়ায় আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে দেশের বাজারে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। দিন দুই আগেই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ পুরী জানিয়েছেন, ৩০ জুন পর্যন্ত মোটা টাকা লোকসানে তেল বিক্রি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। সব মিলিয়ে ৭৪ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে সংস্থাগুলির। সেই লোকসান এখনও সামলে উঠতে পারেনি তারা। ফের নতুন করে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হলে সেটার প্রভাব যে আমজনতার উপর পড়বে সেটা বলাই বাহুল্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এই অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হলে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারত-সহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির ওপর। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পেট্রোল, ডিজেল, বিমান জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের খরচ বাড়তে পারে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় বা হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন আরও ব্যাহত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *