আজকের দিনেভারত

UPI-তে টাকা পাঠানো থাকছে বিনামূল্যেই! কোন লেনদেনে কাটতে পারে চার্জ? জানালো কেন্দ্র !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- UPI নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মাঝেই বড়সড় স্বস্তির বার্তা কেন্দ্রের। লোকসভায় সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর UPI লেনদেনে চার্জ বসতে পারে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই পরিষ্কার করল কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। জানানো হয়েছে, একজন ব্যক্তি অন্যজনকে UPI-এর মাধ্যমে টাকা পাঠালে কোনও মাশুল দিতে হবে না। তবে নির্দিষ্ট কিছু মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে চার্জ বসতে পারে।

বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেমেন্ট অ্যান্ড সেট্‌লমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭-এর সংশোধনী বিল পাস হয়। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, এবার কি UPI লেনদেনের জন্য সাধারণ মানুষকে মাশুল দিতে হবে?

বিল পাস হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয় বিতর্ক। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয় ধোঁয়াশা। এর মধ্যেই শনিবার বিবৃতি দিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক।

কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে UPI পেমেন্টে কোনও চার্জ বা ফি কার্যকর করার প্রস্তাব নেই। বিশেষ করে একজন ব্যক্তি অন্য একজনকে অর্থাৎ পার্সন টু পার্সন লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনও মাশুল নেওয়া হবে না।

তবে নির্দিষ্ট কিছু মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে চার্জ বসানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, সরকার চাইলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ব্যাঙ্ক এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ বা লেভি নেওয়ার অনুমতি দিতে পারে।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ আগেই জানিয়েছিলেন, মার্চেন্ট লেনদেনে যিনি টাকা দিচ্ছেন, তাঁর কাছ থেকে কোনও মাশুল নেওয়া হবে না। সম্ভাব্য চার্জের দায় পড়তে পারে ব্যবসায়ীদের উপর।

এবার অর্থ মন্ত্রকের তরফে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, সমস্ত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এই মাশুল নেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট সীমার উপরে কিছু মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

এমনকি যেসব ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে মাশুল কার্যকর হতে পারে, সেই চার্জও ‘নামমাত্র’ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, এই ধরনের চার্জ চালু হলেও তা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের মাশুলের তুলনায় অনেকটাই কম হতে পারে।

তবে এখানেই রয়ে গিয়েছে বড় প্রশ্ন। ঠিক কত টাকার লেনদেনের পর মার্চেন্টদের উপর চার্জ বসতে পারে, সেই ঊর্ধ্বসীমা এখনও স্পষ্ট করেনি কেন্দ্র। ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে এই মাশুল প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

এই বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের অভিযোগ, সংশোধিত আইনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে UPI লেনদেনের উপর মাশুল বসানোর রাস্তা খুলে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিদেশি লেনদেনকারী সংস্থাগুলিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে তারা।

অন্যদিকে, কেন এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক।

কেন্দ্রের বক্তব্য, দেশে ডিজিটাল এবং অনলাইন লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। UPI ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখার পাশাপাশি সাইবার জালিয়াতির মতো সমস্যার মোকাবিলার জন্যও এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সরকার আরও দাবি করেছে, কোনও বাহ্যিক চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ২০১৬ সালে UPI চালু করার পর থেকে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের জন্য পরিষেবাটি দীর্ঘদিন বিনামূল্যে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।

অর্থাৎ আপাতত সাধারণ UPI ব্যবহারকারীদের জন্য বড় স্বস্তি—*একজনের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যজনের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠালে কোনও চার্জ দিতে হবে না।* তবে নির্দিষ্ট কিছু মার্চেন্ট লেনদেনে ভবিষ্যতে মাশুল বসানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ঠিক কোন লেনদেনে এবং কত টাকার পর এই চার্জ কার্যকর হবে, সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে UPI চার্জ নিয়ে বিতর্ক আপাতত পুরোপুরি কাটছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *