Union Cabinet meeting : ২০২৬ সালের প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- আজ বৃহস্পতিবার ২০২৬ সালের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লির সেবা তীর্থে হতে চলা এই বৈঠকে সব মন্ত্রী ও স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বৈঠকে প্রতিটি দপ্তরের কাজের খতিয়ান নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্ত, তার ফলাফল এবং আগামী দিনের রোডম্যাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি ও ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও মত বিনিময় করবেন মোদি।
প্রসঙ্গত, ১৫ থেকে ২০ মে পর্যন্ত পাঁচ দেশ সফর সেরে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে ও ইটালি সফরে কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, সবুজ প্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়ানো এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি ও বিনিয়োগ সুরক্ষিত করাই ছিল এই সফরের মূল লক্ষ্য। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই সফরকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বৈঠকে এই সফরের প্রাপ্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মন্ত্রীদের অবহিত করবেন প্রধানমন্ত্রী।
একইসঙ্গে সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ ও অসম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় সাফল্য এবং পুদুচেরিতে এনডিএ সরকার গঠনের পর্যালোচনাও বৈঠকের এজেন্ডায় থাকছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ৭২ জন সদস্য রয়েছেন। সাংবিধানিকভাবে আরও কয়েকজনকে মন্ত্রী করার সুযোগ রয়েছে। ২০২৭ সালের একাধিক রাজ্যের ভোট এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও দক্ষিণ ভারত থেকে প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে মন্ত্রিসভায় রদবদলের জল্পনাও তুঙ্গে। সেই কারণে এই বৈঠক থেকে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের স্পষ্ট বার্তা আসতে পারে।
পাঁচ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর সেরে ফেরার পরই ২০২৬ সালের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী। একদিকে বিদেশ সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করা, অন্যদিকে দেশের ভিতরে আসন্ন নির্বাচনগুলির জন্য প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করা— এই দুই লক্ষ্যেই বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণ। দপ্তরগুলির কাজের পর্যালোচনা, পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি নিয়ে কৌশল নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা রদবদলের ইঙ্গিত— সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের বৈঠক আগামী দিনে কেন্দ্রের নীতি ও রাজনীতির গতিপথ অনেকটাই স্পষ্ট করে দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
