পাকিস্তান থেকেই ‘রিয়্যাল টাইম’ নিয়ন্ত্রণ, এনআইএ-র চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পুরো ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল পাকিস্তানের মাটিতেই। জঙ্গি হামলার তদন্তে নেমে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ তাদের চার্জশিটে জানিয়েছে, এই নৃশংস হামলার সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র শুধু পাকিস্তানে বসেই করা হয়নি, বরং ঘটনার দিন লাহৌর থেকে ‘রিয়্যাল টাইম’ বা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে গোটা অপারেশনটি নিয়ন্ত্রণ করেছিল পাক জঙ্গিনাতারা।
এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এসেছে এই হামলার মূলচক্রীর নাম— পাকিস্তানি জঙ্গি সইফুল্লা ওরফে সাজিদ জাট ওরফে ‘ল্যাংড়া’। ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা সইফুল্লা লশকর-এ-ত্যায়বা এবং তার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর অন্যতম শীর্ষ নেতা। বর্তমানে সে লাহৌরে বসে ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
তদন্তে উঠে আসা প্রধান তথ্যসমূহ:
-
টেলিগ্রাম চ্যানেলের উৎস: হামলার পর ‘কাশ্মীর ফাইট’ নামের যে টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে দায় স্বীকার করা হয়েছিল, সেটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বাট্টাগ্রাম থেকে তৈরি। অন্য একটি সন্দেহভাজন চ্যানেল চালানো হতো রাওয়ালপিন্ডি থেকে। যদিও পরে টিআরএফ দাবি করে তাদের চ্যানেল হ্যাক হয়েছিল।
-
পাকিস্তানের মোবাইল ব্যবহার: ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন মহাদেব’-এ নিহত তিন জঙ্গির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইলের মধ্যে দুটি পাকিস্তান থেকে কেনা হয়েছিল। একটি অনলাইনে কিনে লাহৌরের ঠিকানায় পাঠানো হয় এবং অন্যটি করাচি থেকে কেনা হয়েছিল।
-
হামলার আগের রেকি: সইফুল্লার নির্দেশে হামলার ঠিক আগে, ১৫-১৬ এপ্রিল বৈসরণ উপত্যকায় রেকি করেছিল তিন জঙ্গি— ফয়জ়ল জাট, হাবিব তাহির এবং হামজ়া আফগানি।
এনআইএ-র দাবি, হামলার দিন জঙ্গিদের গোপন আস্তানা, আক্রমণের রণকৌশল এবং পালানোর রাস্তা— সবটাই পাকিস্তান থেকে সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছিল সইফুল্লা।
