কেশপুরে টাকা ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ঘেরাও, ঝাঁটা-প্ল্যাকার্ড হাতে গ্রামবাসী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: -কেশপুর: ১৫ বছর ধরে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ। টাকা ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করলেন পঞ্চমী গ্রামের মানুষ। বুধবার ঝাঁটা-প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে নামেন মহিলা-পুরুষরা।
কেশপুরের পঞ্চমী গ্রামে বুধবার অভিনব বিক্ষোভ দেখা গেল। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আবাস যোজনা, শৌচালয় নির্মাণ, মসজিদ ও কবরস্থানের উন্নয়নের নামে তৃণমূলের কিছু নেতা ১৫ বছর ধরে টাকা তুলেছেন। এমনকী গ্রামের গাছ বিক্রি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের টাকাও নয়ছয় করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারী মহিম খান বলেন, “আগে ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি। প্রতিবাদ করলেই পার্টি অফিসে তুলে হেনস্থা করা হতো। সরকার বদলের পর মানুষ সাহস পাচ্ছে। যাঁরা টাকা নিয়েছেন, ফেরত দিতে হবে।” প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “কলোনিতে বাড়ি দেওয়ার নামে ৬২ জনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে, সেই টাকা ফেরত দাও, চোর টিএমসি।” গ্রামবাসীদের দাবি, অভিযুক্ত নেতাদের অনেকে এখন বিজেপির পতাকা নিয়ে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। কয়েকজন গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন গ্রামে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। তাদের পরিবারের লোকজন দরজা বন্ধ করে ভিতরেই ছিলেন। জেলা পরিষদ সদস্য মহম্মদ রফিক বলেন, “গোলমালের কথা শুনেছি, বিস্তারিত জানি না।” পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্ত গড়াই জানান, খোঁজ নেবেন। ব্লক সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজার ফোন বন্ধ।
বিজেপি নেতা তন্ময় ঘোষের দাবি, “এর সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নেই। তৃণমূলের লোকেরাই এখন বিজেপি সাজার চেষ্টা করছে।” বিধানসভা ভোটে কেশপুরে তৃণমূল জিতলেও, ফলপ্রকাশের পর থেকেই নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তার মধ্যেই পঞ্চমীর এই বিক্ষোভ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল।
