বন্ধ হচ্ছে ধর্মের ভিত্তিতে সমস্ত ভাতা ও প্রকল্প, ঘোষণা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: শপথ নেওয়ার মাত্র ৯ দিনের মাথায় এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে চলা সমস্ত সরকারি প্রকল্প এবং ভাতা বন্ধ হতে চলেছে। সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এই বড় ঘোষণা করেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট ভাষায় সরকারের এই নতুন নীতির কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন:
“ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরে প্রদত্ত সহায়তামূলক প্রকল্পগুলি বন্ধ হবে। এই চলতি মাসে (মে) প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা মিললেও, আগামী মাস (জুন) থেকে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে খুব শীঘ্রই সরকারের তরফ থেকে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।”
বন্ধ হচ্ছে ইমাম-মোয়াজ্জেম ও পুরোহিত ভাতা?
মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পূর্বতন তৃণমূল জমানায় চালু হওয়া বহু চর্চিত ইমাম, মোয়াজ্জেম এবং পুরোহিত ভাতা এবার পাকাপাকিভাবে বন্ধ হতে চলেছে। তৎকালীন বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করে আসছিল যে, তৃণমূল সরকার ভোটের স্বার্থে রাজ্যে ‘তোষণের রাজনীতি’ করছে এবং এই ধরণের ভাতা রাজ্যের অর্থনৈতিক শিরদাঁড়া ভেঙে দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এবার সেই ‘রেউরি’ বা খয়রাতি সংস্কৃতিতে রাশ টেনে সংস্কারের পথেই হাঁটল বলে মনে করা হচ্ছে।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির প্রধান স্লোগানই ছিল— “ভাতা নয়, ভাত চাই”। অর্থাৎ, খয়রাতি ভাতার বদলে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পদ্ম শিবির। সরকার গঠনের মাত্র ৯ দিনের মাথায় এই ধরণের ধর্মীয় বৈষম্যমূলক প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত সেই সংকল্প পূরণেরই প্রথম ধাপ বলে দাবি করছে শাসক দল।
অন্যদিকে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মহিলাদের জন্য দূরপাল্লার সরকারি বাসে বিনামূল্যে সফর এবং আগামী ১ জুন থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অধীনে যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়ার মতো একাধিক বড় জনকল্যাণমূলক ঘোষণাও করা হয়েছে।
তবে সপ্তাহের প্রথম দিনেই ধর্মীয় ভিত্তিক ভাতা বন্ধের এই মেগা সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা ও আলোড়ন শুরু হয়ে গিয়েছে।
