আজকের দিনেবাংলার আয়না

শওকত মোল্লার ভাইয়ের ইটভাটা থেকে বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, জীবনতলা: চব্বিশের লোকসভা কিংবা সাম্প্রতিক ছাব্বিশের বিধানসভা— ভোট মিটলেও বাংলায় রাজনৈতিক হিংসা এবং মৃত্যুর আবহ যেন কাটছেই না। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলার এক ইটভাটা থেকে এক সক্রিয় বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো এলাকায়। মৃত ব্যক্তির নাম দুধকুমার সর্দার। পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, তাঁকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

​ঘটনাটি ঘটেছে জীবনতলার দেউলি গ্রাম পঞ্চায়তের পয়না এলাকার একটি ইটভাটায়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে ইটভাটার একটি ঘরের মধ্যে এক ব্যক্তির দেহ ঝুলতে দেখেন কর্মরত শ্রমিকরা। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। খবর দেওয়া হয় জীবনতলা থানায়। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

​তদন্তে নেমে এবং স্থানীয় সূত্রে যে তথ্য সামনে আসছে, তা এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, যে ইটভাটা থেকে দুধকুমার সর্দারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটির মালিক শাহজাহান মোল্লা। এই শাহজাহান হলেন ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা সদ্য সমাপ্ত ছাব্বিশের নির্বাচনে ভাঙড়ের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী, দাপুটে নেতা শওকত মোল্লার ভাই। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর, তৃণমূলের এত বড় একজন নেতার ভাইয়ের ইটভাটা থেকে বিজেপি কর্মীর দেহ উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই জলঘোলা শুরু হয়েছে।

​মৃত দুধকুমার সর্দার জীবনতলার হরিণদা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এলাকায় একজন অত্যন্ত সক্রিয় বিজেপি সমর্থক হিসেবেই তাঁর পরিচিতি ছিল। পরিবারের দাবি, রবিবার রাতে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, কিন্তু আর ফিরে আসেননি। সকালে তাঁর এই পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না পরিজনরা। তাঁদের অভিযোগ, দুধকুমারকে পরিকল্পিতভাবে খুন করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য ইটভাটার ঘরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
​ঘটনার পর সুর চড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরও। বিজেপির যুব মোর্চার ভাইস প্রেসিডেন্ট সুমন মণ্ডল এই প্রসঙ্গে বলেন:
​”মৃত দুধকুমার সর্দার আমাদের দলের একজন অত্যন্ত সক্রিয় কর্মী ছিলেন। নির্বাচনের সময় দলের একাধিক মিটিং-মিছিলেও তিনি সামনের সারিতে থেকে যোগ দিয়েছিলেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি যাতে এর একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়।”

​রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই মৃত্যুর পিছনে কোনও রাজনৈতিক রেষারেষি বা প্রতিহিংসা রয়েছে কি না, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে জীবনতলা থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *