মুর্শিদাবাদে ট্রেন দুর্ঘটনা: গ্রেপ্তার ‘নেশাড়ু’ গেটম্যান, সাসপেন্ড ২!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মুর্শিদাবাদঃ শুক্রবার সকালে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণ। লেভেল ক্রসিং খোলা থাকায় দ্রুতগতির একটি ট্রেনের ধাক্কায় পিষ্ট হলো পুলকার ও সাইকেল আরোহী। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই রেলের তরফে গেটম্যান ও সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করে।
নেশাগ্রস্ত থাকতেন গেটম্যান! ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অত্যন্ত মারাত্মক। তাঁদের দাবি, ধৃত গেটম্যান ডিউটি চলাকালীন দিনভর মদ-গাঁজা খেয়ে বুঁদ হয়ে থাকতেন। নেশার ঘোরে প্রায়দিনই তিনি গেট বন্ধ করার পর তা খুলতে ভুলে যেতেন, যার ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকত যান চলাচল। বারংবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
এদিনও লেভেল ক্রসিং খোলা রেখেই কেবিনের ভেতর তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বসেছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ওই গেটম্যানকে তাঁর কেবিনের ভেতরেই তালাবন্ধ করে আটকে রাখে। গ্রেপ্তারের সময়ও অভিযুক্তের শারীরিক ভাষা দেখে সে নেশাগ্রস্ত ছিল বলেই অনুমান পুলিশের।
ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার ও রেলের তদন্তকারী দল
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলার পুলিশ সুপার। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে অভিযুক্ত গেটম্যানকে উদ্ধার করে বহরমপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই রেলের একটি ৭ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
রেলের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন অধীর চৌধুরীর
খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যান কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী অধীররঞ্জন চৌধুরী। উত্তেজিত জনতার ক্ষোভের কথা শোনার পর তিনি রেলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “গেটম্যানের গাফিলতিতেই এই চরম বিপর্যয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা বলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এই গেটম্যান কি স্থায়ী সরকারি কর্মী, নাকি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আনা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে হবে। তাঁর আদৌ কোনো যথাযথ প্রশিক্ষণ ছিল কি না, সেটাও বড় প্রশ্ন।”
রেল ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
