এবার শিশুদের ‘স্মার্টফোন আসক্তি’ রুখবে আশাকর্মীরা!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: বাড়ি বাড়ি গিয়ে গর্ভবতী মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়া, টিকাকরণের ব্যবস্থা করা— এতদিন গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল কাণ্ডারি আশাকর্মীদের এই রূপেই চিনে এসেছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু এবার তাঁদের কাঁধে আসতে চলেছে এক অভিনব ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এবার থেকে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় কোন শিশু অতিরিক্ত স্মার্টফোনে আসক্ত, তা চিহ্নিত করার কাজও করবেন এই আশাকর্মীরাই। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব তথা ন্যাশনাল হেলথ মিশনের মিশন ডিরেক্টর আরাধনা পট্টনায়েক।
প্রত্যন্ত গ্রামেও থাবা বসিয়েছে মোবাইল আসক্তি
শহরের গণ্ডি পেরিয়ে স্মার্টফোনের নেশা এখন থাবা বসিয়েছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। আরাধনা পট্টনায়েক জানান, “গ্রামে এখন এমন বহু পরিবার রয়েছে, যাদের বাড়িতে হয়তো এসি, টিভি বা ফ্রিজের মতো বিলাসবহুল জিনিস নেই, কিন্তু একটি স্মার্টফোন ঠিকই রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান বাবা-মায়েদের মধ্যে শিশুকে ব্যস্ত রাখার জন্য বা শান্ত করার জন্য অল্প বয়সেই হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার একটি মারাত্মক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
শিশুর মস্তিষ্কে সুদূরপ্রসারী ক্ষতি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আধিকারিকদের মতে, মা-বাবারা অজান্তেই শিশুদের বড় ক্ষতি করছেন। অল্প বয়সে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে শিশুদের মধ্যে:
মনোযোগের চরম ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
দেরিতে কথা শেখার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।
চোখের মারাত্মক ক্ষতি এবং খিটখিটে আচরণগত সমস্যা দেখা যাচ্ছে।
আশাকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও নতুন CBAT ফর্ম
এই নীরব মহামারি রুখতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্র সরকার। শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে কী ধরণের সমস্যা হচ্ছে, তা গ্রাম স্তরেই শনাক্ত করার জন্য আশাকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার তাদের পুরনো প্রশিক্ষণ মডিউলেও সংশোধন এনেছে।
এখন থেকে আশাকর্মীরা যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করবেন, তখন তাঁদের একটি বিশেষ CBAT (Community Based Assessment Checklist) ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই ফর্মে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু প্রশ্ন, যেমন:
-
বাড়ির শিশুটি দিনে ঠিক কতটা সময় মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে কাটায়?
-
মোবাইল ব্যবহারের কারণে শিশুর আচরণ বা শরীরে কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা যাচ্ছে কি না?
-
অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে শিশুটি কেমন প্রতিক্রিয়া বা জেদ দেখাচ্ছে?
স্মার্টফোন আসক্তি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এটিই হবে একেবারে প্রাথমিক স্তরের স্ক্রিনিং।
স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়িতেও বিশেষ নজরদারি
শুধু আশাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি সমীক্ষাই নয়, এই আসক্তি দূর করতে আরও বড় পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। আরাধনা পট্টনায়েক জানিয়েছেন, একইভাবে স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতেও এই বিষয়টি ‘স্কুল হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস প্রোগ্রাম’-এর অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রশাসনিক ও চিকিৎসা মহলের মতে, সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ আগামী দিনে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশকে প্রযুক্তির অন্ধ আসক্তি থেকে রক্ষা করতে এক বড় ভূমিকা নেবে।
