আজকের দিনেতিলোত্তমা

মদের দোকান বন্ধ নিয়ে ঘনীভূত রহস্য!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ভোট শুরুর অনেক আগে থেকেই রাজ্যজুড়ে মদের দোকানের ঝাঁপ বন্ধ! কেন এই আগাম ‘ড্রাই ডে’? এই প্রশ্নে যখন রাজ্য তোলপাড়, ঠিক তখনই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের মন্তব্য এই বিতর্ককে এক নতুন মাত্রা দিল। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে দোকান বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশ তারা দেয়নি।

কমিশনের বিস্ময় ও দায় ঝেড়ে ফেলা

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যে কেন্দ্রে ভোট থাকে, তার ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে মদের দোকান বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু এবার দেখা গিয়েছে, ভোটের অনেক আগে থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে দোকান বন্ধ করে সিল করে দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিস্ময় প্রকাশ করে মনোজ আগরওয়াল জানান, কেন এমনটা করা হয়েছে তা আবগারি দফতরই বলতে পারবে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “কমিশনের পক্ষ থেকে এমন কোনো অতিরিক্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।”

ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

আবগারি দফতরের নির্দেশে গত ২০ তারিখ থেকেই অধিকাংশ দোকানের ঝাঁপ পড়ে গিয়েছে। অথচ আগামী ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার ভোট! এত দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দোকানদারদের ক্ষোভ, যেখানে কমিশন নির্দেশ দেয়নি, সেখানে আবগারি দফতর কেন আগাম দোকান বন্ধ করে সিল করে দিল?

সমন্বয়হীনতার চূড়ান্ত রূপ

তালিকায় দেখা যাচ্ছে:

  • প্রথম দফা (২৩ তারিখ): নিয়ম অনুযায়ী ২০ তারিখ থেকে বন্ধ থাকা স্বাভাবিক।

  • দ্বিতীয় দফা (২৯ তারিখ): এই দফার ভোটের জন্য এখনই কেন কলকাতাতেও দোকান বন্ধ করা হলো, তা নিয়ে কোনো সদুত্তর নেই।

রাজনৈতিক চাপানউতোর

নির্বাচন কমিশনের এই ‘হাত ধুয়ে ফেলা’র পর স্বভাবতই আঙুল উঠছে রাজ্য সরকারের আবগারি দফতরের দিকে। কমিশনের দাবি এবং আবগারি দফতরের নির্দেশের মধ্যে এই ফারাক কেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা। প্রশাসনিক এই সমন্বয়ের অভাবের মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীদের।

কার নির্দেশে এবং কোন আইন বলে এই দীর্ঘমেয়াদী ‘ড্রাই ডে’ পালিত হচ্ছে, এখন সেই উত্তরই খুঁজছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *