আজকের দিনেতিলোত্তমা

ট্যাংড়ায় একই পরিবারের ৩ সদস্যকে রড-ব্লেড দিয়ে হামলা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ফের উত্তপ্ত তিলোত্তমা। মঙ্গলবার রাতে ট্যাংরার পুলিন খাটিক রোডে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিবাদের জেরে আক্রান্ত হলেন একই পরিবারের তিন সদস্য। লোহার রড ও ব্লেড দিয়ে তাঁদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩১/১ পুলিন খাটিক রোডের বাসিন্দা বিক্রম খাটিক প্রতিদিন তাঁর বাড়ির সামনে নিজের গাড়ি পার্ক করেন। মঙ্গলবার রাতে জনৈক এক ব্যক্তি সেখানে জোর করে গাড়ি রাখতে গেলে বিক্রমবাবু বাধা দেন। অভিযোগ, এরপরই বচসা চরমে ওঠে এবং হঠাৎই পাড়ার প্রায় ৪০-৫০ জন যুবক বিক্রমবাবুর পরিবারের ওপর চড়াও হয়।

ব্লেড ও রড নিয়ে তাণ্ডব

হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন বিক্রম খাটিক, সাবিত্রী খাটিক এবং সানি খাটিক। অভিযোগ, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে মারধরের পাশাপাশি তাঁদের শরীরে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে। এমনকি বিক্রমবাবুর বাড়িতে ঢুকেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে এনআরএস (NRS) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের ভূমিকা ও রাজনৈতিক যোগ

আক্রান্ত বিক্রমবাবুর স্ত্রী প্রীতি খাটিকের দাবি, হামলাকারীরা সকলেই এলাকার শাসকদল তৃণমূলের কর্মী হিসেবে পরিচিত। তাঁর আরও অভিযোগ:

  • অভিযুক্তরা এলাকায় অবাধে গাঁজা ও ড্রাগসের কারবার চালায়।

  • এর আগেও থানায় অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ কোনো সক্রিয় ব্যবস্থা নেয়নি।

  • প্রীতি দেবীর দাবি, তাঁরা নিজেরাও তৃণমূলের সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও আজ তাঁরাই ঘরছাড়া এবং প্রাণভয়ে আতঙ্কিত।

বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণার মাঝেই বিক্রমবাবু কাতর আর্জি জানান, “আমাদের বাঁচান, পুলিশ কিছু করছে না। ওরা আমাকে মেরেই ফেলবে।”

থানায় অভিযোগ ও উত্তেজনা

এই ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে নামজাদা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ট্যাংরা থানায়। মূল অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে শিবু খাটিক, রোহিত দাস, সানিয়া আলম, সাহিল রানা ও মণীশ খাটিকসহ আরও বেশ কয়েকজন। নির্বাচনের মুখে খাস কলকাতায় এমন নজিরবিহীন তাণ্ডব এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে বিরোধী শিবির। বর্তমানে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে, মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *