আজকের দিনেভারত

জ্বালানির শুল্কে ১০ টাকা ছাড় কেন্দ্রের! বিশ্ববাজারের উত্তাপে আমজনতা কি আদৌ স্বস্তি পাবে?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে অশোধিত তেলের দাম। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। শুক্রবার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর লিটার প্রতি ১০ টাকা আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কমানোর ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে শুল্কের কাঠামোয় বড় বদল এসেছে:

পেট্রোল: লিটার প্রতি আবগারি শুল্ক কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ টাকায়।

ডিজেল: ডিজেলের ওপর থেকে সমস্ত আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে (বর্তমানে ০ টাকা)।

শুল্ক ১০ টাকা কমলেও সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির দাম কতটা কমবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাধারণ উপভোক্তারা এই ছাড়ের সুবিধা সরাসরি না-ও পেতে পারেন। কারণ:

সংস্থাগুলোর লোকসান: ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ফলে ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলো প্রতি লিটারে প্রায় ৪৮.৮ টাকা লোকসান করছে।

দাম বৃদ্ধি: গতকালই ‘নায়ারা এনার্জি’ পেট্রোলে ৫ টাকা ও ডিজেলে ৩ টাকা দাম বাড়িয়েছে।

ক্ষতিপূরণ: মনে করা হচ্ছে, কেন্দ্র যে ১০ টাকা শুল্ক কমিয়েছে, সেই টাকা তেলের দাম না কমিয়ে নিজেদের লোকসান সামাল দিতে ব্যবহার করবে তেল সংস্থাগুলো। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, জ্বালানি সংকট তত তীব্র হচ্ছে। ইতিমধ্য়েই রান্নার গ্যাসের (LPG) দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্নিমূল্য তেলের জেরে দেশের পাম্পগুলোতেও দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত আসলে তেল সংস্থাগুলোকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচানোর একটি কৌশল, যাতে বিশ্ববাজারের বর্ধিত দামের চাপ সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর আছড়ে না পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *