২১ জুলাইয়ের অনুমতি নিয়ে তরজা! ধর্মতলায় না, এবার আদালতের দ্বারস্থ ‘কালীঘাট তৃণমূল’
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরের ফাটল ও রাজনৈতিক জটিলতা এবার ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাজপথে আছড়ে পড়ল। ঐতিহ্যবাহী ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের মেগা ইভেন্ট আয়োজনের অনুমতি মেলেনি পুলিশ প্রশাসনের তরফে। কলকাতা পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং সভার অনুমতি চেয়ে এবার সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলো ‘কালীঘাট তৃণমূল’।
ধর্মতলায় সভা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুলিশের
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতি বছর এই দিনটিকে ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথামাফিক ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলেই এই মেগা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এবার সেই নিয়মে ছেদ পড়তে চলেছে। ব্যস্ততম ধর্মতলা এলাকায় এই বছর সভার অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। ইতিমধ্যেই মমতাপন্থী তৃণমূল নেতারা ধর্মতলায় ফিতে নিয়ে জায়গা মাপামাপি করতে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
‘আসল’ বনাম ‘কালীঘাট’: দুই শিবিরের দড়ি টানাটানি
ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই ঘাসফুল শিবির কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’। দলের প্রতীক ও দলীয় তহবিল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছেই।
কলকাতা পুলিশ দুই শিবিরেরই ধর্মতলায় সভা করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এর পরই বিকল্প জায়গার সন্ধানে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রতপন্থীরা। তাঁরা ধর্মতলার পরিবর্তে কলকাতার গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ২১ জুলাইয়ের সভা করার অনুমতি চেয়েছেন। অন্যদিকে, ধর্মতলার দাবিতে অনড় থেকে আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটেছে কালীঘাট শিবির।
প্রতীক বাঁচানো ও সংগঠন ধরে রাখার মরণপণ লড়াই
রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের ২১ জুলাই কালীঘাট তৃণমূলের কাছে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক মরণপণ লড়াই। অতীতে এই একুশের মঞ্চকে ব্যবহার করে যেভাবে অন্য দল থেকে বড় বড় নেতাদের তৃণমূলে যোগ দেওয়ানো হতো, আজ সেই একই ভাঙনের অস্ত্রে বিদ্ধ খোদ কালীঘাট। দলের বেশিরভাগ সাংসদ ও বিধায়ক এখন বিদ্রোহী ভূমিকা নিয়েছেন এবং তাঁরা মমতা-অভিষেকের নেতৃত্ব মানতে নারাজ।
এই চরম সাংগঠনিক সংকটের দিনে দলত্যাগী ও বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করাই এখন শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তাই এবারের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চকে ব্যবহার করে দলের সেইসব পুরনো, অনুগত নেতাকর্মী— যাঁরা দুর্দিনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন কিন্তু হয়তো সঠিক সম্মান বা কাজ করার সুযোগ পাননি— তাঁদের এক ছাতার তলায় এনে সংগঠনের বাঁধুনি নতুন করে শক্ত করতে চাইছে কালীঘাট তৃণমূল।
তবে আইনি জটিলতা এবং পুলিশের অনড় মনোভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক সমাবেশ ঠিক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে এখনও চরম অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
