আজকের দিনেভারত

অযোধ্যায় রামলালার কপালে ‘সূর্য তিলক’, বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার অনন্য মেলবন্ধন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,অযোধ্যা: ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর ১২টা। সরযূ তীরের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে। ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই অযোধ্যার নবনির্মিত রাম মন্দিরে ঘটল এক অলৌকিক অথচ বৈজ্ঞানিক বিস্ময়। নবমীর পুণ্য তিথিতে সূর্যের প্রখর রশ্মি এসে পড়ল রামলালার ললাটে। টানা চার মিনিট ধরে চলল সূর্যদেবতার এই বিশেষ অভিষেক, যা দেখে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গেলেন উপস্থিত লক্ষ লক্ষ ভক্ত।

রামলালার কপালে ৫.৮ সেন্টিমিটার ব্যাসের এই আলোকবিন্দুটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং ভারতীয় বিজ্ঞানীদের নিরলস পরিশ্রমের ফল। রুরকির CBRI এবং বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের বিজ্ঞানীরা আয়না এবং লেন্সের সমন্বয়ে একটি জটিল অপ্টো-মেকানিক্যাল সিস্টেম তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমেই মন্দিরের তিন তলা থেকে সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে সরাসরি গর্ভগৃহে বিগ্রহের কপালে নামিয়ে আনা হয়। চন্দনের তিলকের ওপর যখন সেই আলোকবিন্দু স্থির হয়, তখন মনে হচ্ছিল স্বয়ং সূর্যদেব তাঁর উত্তরপুরুষকে আশীর্বাদ করছেন। নির্বাচনী ব্যস্ততার মাঝেও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ট্যাব বা টিভি স্ক্রিনে সেই দৃশ্য দেখে তিনি হাত জোড় করে দেশবাসীর মঙ্গল প্রার্থনা করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই সূর্য তিলক ভারতের বৈজ্ঞানিক দক্ষতা এবং আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। অযোধ্যায় পৌঁছাতে না পারা কোটি কোটি মানুষও বড় এলএইডি স্ক্রিন ও সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই দৃশ্যের সাক্ষী হন।

রামনবমী উপলক্ষে আজ ভোর ৫টা থেকেই মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী:

জনজোয়ার: প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি ভক্ত আজ সরযূ নদীতে পুণ্যস্নান সেরে মন্দিরে ভিড় জমান।

ভোগ নিবেদন: সূর্য তিলকের ঠিক পরেই রামলালাকে ৫৬ প্রকারের ভোগ নিবেদন করা হয়।

সাজসজ্জা: বেলা ১১টায় বিগ্রহকে পঞ্চগব্য ও সুগন্ধি জলে স্নান করিয়ে রাজকীয় সাজে সাজানো হয়।

অযোধ্যার এই রামনবমী প্রমাণ করল, আধুনিক ভারত তার প্রাচীন ঐতিহ্যকে বিসর্জন দেয়নি, বরং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে তাকে পৌঁছে দিয়েছে এক নতুন উচ্চতায়। এই সূর্য তিলক যেন এক নতুন ও আত্মবিশ্বাসী ভারতের উদয়ের প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *