আজকের দিনেতিলোত্তমা

‘ডক্টরস ফোরাম’ ছাড়লেন ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: আর জি কর কাণ্ডের আবহে যখন চিকিৎসক সংগঠনগুলোর ঐক্য খবরের শিরোনামে, ঠিক তখনই তাল কাটল অন্দরে। দীর্ঘদিনের বাম ঘেঁষা পরিচয় ঝেড়ে ফেলে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’-এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভায় তাঁর উপস্থিতি এবং পানিহাটি কেন্দ্রের নির্বাচনী সমীকরণই এই ‘ব্রেকআপ’-এর মূল কারণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে ময়দানে রয়েছেন:

তৃণমূল কংগ্রেস: তীর্থঙ্কর ঘোষ।

সিপিএম: কলতান দাশগুপ্ত।

বিজেপি: রত্না দেবনাথ (আর জি করের নিহত চিকিৎসকের মা)।

সূত্রের খবর, ডক্টরস ফোরাম এই কেন্দ্রে কলতান দাশগুপ্তকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথের হয়ে সমাজমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন। এই ‘ব্যক্তিগত’ পছন্দের সঙ্গে ‘ফোরামের’ অবস্থানের সংঘাত দেখা দেওয়ায় তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে ডা. বন্দ্যোপাধ্যায় জানান: “ফোরামের অবস্থানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সহমত হতে পারছি না। আপাতত তাই ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের সঙ্গে আমার এতদিনের সম্পর্কে বিরতি টানলাম।”

এই পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই চিকিৎসকমহল ও নেটিজেনদের মধ্যে আড়াআড়ি বিভাজন স্পষ্ট। কেউ তাঁকে ‘সুবিধাবাদী’ বলে কটাক্ষ করেছেন, আবার কেউ তাঁর নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তিগত পছন্দকে সমর্থন জানিয়েছেন। গৌতম কৃষ্ণ রায়ের মতো কেউ কেউ লিখেছেন, “সম্মান ধরে রাখা কঠিন,” আবার শান্তনু জানার মতো অনুগামীরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে জানিয়েছেন, পছন্দের দলকে সমর্থন করার পূর্ণ অধিকার একজন নাগরিকের আছে। নারায়ণবাবুর এই পদত্যাগ নিয়ে মুখ খুলেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামও। সংগঠনের পক্ষে ডা. রাজীব পাণ্ডে কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরেই বলেন, “ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় ফোরামের কোনো পদাধিকারী ছিলেন না। উনি নিজে নিজেই সমাজমাধ্যমে পদত্যাগের কথা লিখে দিয়েছেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *